Categories
Uncategorized

তরুণদের চাকরির সুযোগ দিয়ে হংকংয়ের পাশে কানাডা

মাধ্যমিকের পাঠ শেষ করেই কানাডায় চলে যেতে পারবেন হংকংয়ের তরুণরা। সেখানে চাকরির সুযোগের পাশাপাশি তাদের জন্য পড়াশোনারও

বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী মার্কো মেনডিসিনো এ ঘোষণা দেন।
এদিকে গত বুধবার হংকংয়ের চার গণতন্ত্রপন্থী আইনপ্রণেতাকে চীনের অযোগ্য ঘোষণা করে বরখাস্ত করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ

দেখিয়ে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়। কিছু দিন আগেই বেইজিং একটি নতুন বিল পাস করেছে, যার ফলে আদালতের নির্দেশ না নিয়েই সংসদ সদস্যদের বহিষ্কার করার ক্ষমতা পেয়েছে সরকার। এ ঘটনার পর চীনের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থী চার আইনপ্রণেতাকে বহিষ্কারের ঘটনাকে সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে বেইজিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রিয়েন বলেন, হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী চার আইনপ্রণেতাকে বহিষ্কারের ঘটনায় কোনো সন্দেহ নেই যে, সেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, হংকংয়ের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে এমন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হবে এবং তাদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র হংকংয়ের স্বাধীনতা দমনের অভিযোগে আরও চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আদালতে যাওয়ার সুযোগও পাননি ওই চার আইনপ্রণেতা। এর প্রতিবাদে হংকংয়ের

বিরোধী দলীয় আরও ১৫ সংসদ সদস্য একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন। শহরটির ৭০ সদস্যের পার্লামেন্টে তারাই ছিলেন অবশিষ্ট গণতন্ত্রপন্থী নেতা। তারা জানিয়ে দিয়েছেন, আইনসভায় আর থাকবেন না তারা, রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন। হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থীদের এমন আচরণে বেইজিং নিন্দা জানিয়েছে। বেইজিং বলছে, এভাবে দেশের আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। এদিকে বেইজিংয়ের এই

বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য। এক সময় হংকং ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ। কয়েক দশক আগে তা চীনের হাতে চুক্তির মাধ্যমে তুলে দেয়া হয়। সেই চুক্তিতে হংকংয়ের অধিকারের বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট বক্তব্য ছিল। যুক্তরাজ্যের দাবি, চীন সেই চুক্তি মানছে না। বেইজিং যেভাবে হংকংয়ে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করছে, তা চুক্তিবিরোধী। গণতন্ত্রপন্থীদের সঙ্গে সেখানে যে আচরণ করা হচ্ছে, যুক্তরাজ্য তারও নিন্দা করেছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেন, হংকংয়ের নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের অযোগ্য ঘোষণা করতে বেইজিংয়ের নতুন

নীতি আইনগতভাবে আবদ্ধ সিনো-ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর মাধ্যমে চীন আবারও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং হংকংয়ের উচ্চতর স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করেছে। তবে এ ব্যাপারে কানাডা কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেনি। সরাসরি হংকংয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে কানাডা সরকার। ফলে কানাডার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আরও খারাপ হবে বলেই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হংকং নিয়ে চীনের নীতিকে বিশ্বের অনেক দেশ পছন্দ করছে না। এর আগে প্রকাশ্যে এর নিন্দা করেছে ইউরোপীয়ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু হংকং নিয়ে নিজেদের অবস্থান বদলায়নি বেইজিং। বরং হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর চাপ আরও বাড়ানো হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই কানাডার এই প্রস্তাবকে ভালো চোখে দেখবে না চীন। এর আগেও বিভিন্ন বিষয়ে চীনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে কানাডার। হংকং ও তাইওয়ান
প্রসঙ্গে

আগেও বিরূপ মন্তব্য করেছে দেশটি। তবে বৃহস্পতিবারের ঘোষণা অন্য মাত্রা পাবে বলেই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *