Categories
Uncategorized

মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা জাতীয় পার্টির

দলের সাংগঠনিক কাজ গতিশীল করা ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের জোটভিত্তিক রাজনীতির অন্যতম ক্রীড়ানক জাতীয় পাটি জোটের

রাজনীতির বাইরে গিয়ে একক রাজনীতিতে মনোনিবেশ করছে। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসাইন মুহাম্মাদ এরশাদের মৃ”ত্যুর পর দলটির হাল ধরেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। দায়িত্বভার নেওয়ার পর থেকেই জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠায় মন দেন জিএম

কাদের। যার অংশ হিসাবে দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও সারাদেশে সংগঠনকে শ’ক্তিশালী করার প্রতি নজর দেন তিনি। দলটির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতৃবৃন্দ বাংলা ইনসাইডারের সাথে আলোচনায় জানান, আওয়ামী লীগের সাথে জোট করার পর জাতীয় পার্টি ক্ষমতার অংশীদার হলেও দলটির আর্দশিক ও সাংগঠনিক অবস্থা আগের তুলনায় অনেক দূ’র্বল হয়ে গেছে।

তাদের মতে, আওয়ামী লীগের সাথে জোটভিত্তিক রাজনীতি করার ফলে দলটি কেবলমাত্র উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক দলে পরিণত হয়েছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দেশের অনেক স্থানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি থেকে ভালো ফলাফল করেছে। নির্বাচনে কম ভোট পাওয়া ও জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা হ্রাসের পেছনে দলটির অতিমাত্রায় মহাজোট কেন্দ্রিক রাজনীতিকে দায়ী করছেন নেতৃবৃন্দ।

এমতবস্থায় দলটির আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে দলটির নেতৃবৃন্দ। যার অংশ হিসাবে সারা দেশেই নতুন করে কমিটি করা ও কর্মী সম্মেলন আয়োজনের মিশনে নেমেছে দলটি। ইতিমধ্যে দেশের নানান জেলায় কর্মী সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় পার্টির অতি আওয়ামী লীগ নির্ভরতা নিয়ে চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের দলটির কর্মী সভায় বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে জাতীয় পার্টি

নির্বাচন করেছে। আমরা নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সাহায্য করেছি, তেমনি তারাও সাহায্য করেছে জাতীয় পার্টিকে। তার মানে এই নয় যে, জাতীয় পার্টি এখন আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে।’ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট নিয়ে রাজনীতির মাঠে আছে। অনেকেই মনে করেন জাতীয় পার্টি এখন আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে। এটা তাদের ভুল ধারণা।

জাতীয় পার্টি যদি আওয়ামী লীগ হয়ে যায়, তাতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির শ’ত্রুরা লাভবান হবে। তারা আমাদের ভোট নিতে চে’ষ্টা করবে।’দলটির সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ইনসাইডারকে জানান জাতীয় পার্টি এখন থেকে একলা চলো নীতি অনুসরণ করবে। আর সেই নীতি বাস্তবায়ন করতেই মহাজোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

জাতীয় পার্টির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েকমাস ধরে দলের আটটি প্রতিনিধি দল আটটি বিভাগে জনসমর্থন জরিপের কাজটি করছে। জেলা-উপজেলাগুলোতে কী পরিমাণ মানুষ জাতীয় পার্টির পক্ষে সমর্থন রয়েছে, তৃণমূল পর্যায় থেকে সেই তথ্যই তুলে আনছেন তারা। জরিপ শেষ করে তার তথ্য এ বছরের শেষ নাগাদ সংকলিত করতে পারবেন বলে মনে করছেন দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি দলের নেতারা। সেক্ষেত্রে মহাজোট ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি আগামী বছরের শুরুর দিকেই ঘোষণা করা হতে পারে।দলটি সাংগঠনিক কাঠামো শ’ক্তিশা’লী করার পাশাপাশি

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়েও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে সম্ভ্রাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে নানান আলোচনাও শুরু হয়েছে পার্টির শীর্ষমহলে।শীর্ষ নেতাদের মতে, বর্তমানে দলটির জনসমর্থন যাচাই করার পাশাপাশি পার্টিকে শক্তিশালী করা ও আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য তিনশ আসনে যোগ্য প্রার্থী সন্ধান করারও অতি গুরুত্বপূর্ণ। আগে থেকেই প্রার্থী যাচাইয়ের কথা জানলে নেতাদের মধ্যে দলীয় কাজের প্রতি

মনোযোগ তৈরি হবে। শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মনোযোগ পাওয়ার জন্য সম্ভ্রাব্য প্রার্থী নিজ এলাকায় পার্টিকে সুসংগঠিত করবে। যা দিন শেষে জাতীয় পার্টিকেই শ’ক্তিশা’লী করবে। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় জানান, প্রত্যেক জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় শহরে কর্মী সম্মেলন হচ্ছে। সেখানে জাতীয় পার্টির একক রাজনীতি করা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, গত মঙ্গলবার

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত সকল সদস্যই জাতীয় পার্টির একক রাজনীতির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।

— বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *