Categories
Uncategorized

‘অ’বৈধ গ’র্ভ’পাত’ করিয়ে কোটিপতি নার্স মমতাজ

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বা’স্থ্য কমপ্লেক্সের এক নার্স অ’বৈধ গ’র্ভপাতের কাজ করে কোটিপতি হয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় মানুষের

নানা সমালোচনা রয়েছে। একসময় এসব কাজ করলেও এখন মানবতার তাড়নায় তা করছেন না বলে জানিয়েছেন অ’ভিযুক্ত নার্স মমতাজ বেগম। বি’ষয়টি ত’দন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। মমতাজ বেগম ফুলপুর উপজে’লা স্বা’স্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ৮

নম্বর ওয়ার্ডের দিউ এলাকায় বসবাস করেন। তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিক ওরফে সিদ্দিক মাষ্টার। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সিবিএমসিবি)’তে পড়াশোনা শেষ করে ইন্টার্নী করছে। ছোট মেয়ে নাসিং এ পড়াশোনা করছেন। আয়েশা খাতুন (ছদ্মনাম) ফুলপুর পৌর শহরের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে কলেজে পড়াকালীন সময় প্রেম হয় স্থানীয় এক

ব্যবসায়ীর সাথে। প্রেমের ছয় মাস পর শা’রীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন তারা। পেটে আসে বাচ্চা। বয়স হয় ৮ সপ্তাহ। চিন্তায় মা’নসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন তারা। একজনের পরামর্শে উপায় খোঁজার জন্য স্বরনাপন্ন হন নার্স মমতাজ বেগমের। সমাধানের পথও পান। ৬ হাজার টাকায় গ’র্ভপাত করান আয়েশা খাতুন। শা’রীরিক দুর্বলতা কা’টাতে কিনেন আরো ২৩শ টাকার ও’ষুধ। কিছুদিন ও’ষুধ খাওয়ার পর শা’রীরিক দুর্বলতা

কিছুটা সাড়লেও জরায়ুতে প্রায় ব্যাথা হয় তার। এ ঘটনার দুই বছর পর বিয়ে হয় আয়েশা খাতুনের। কিন্তু গর্ভে এখনও বাচ্চা আসেনি। বিভিন্ন চিকিৎসক দেখিয়েও কোন লাভ হয়নি। এজন্য তিনি অপরিকল্পিত এভ’য়েশন করানোকেই দায়ী করছেন। তিলে তিলে নিজেকে ক’ষ্ট দিচ্ছেন। তার জানামতে অনেক যুবক-যুবতীরা গ’র্ভপাত করান নার্স মমতাজ

বেগমকে দিয়ে। স্বা’স্থ্য কমপ্লেক্স, প্রাইভেট ক্লিনিক এবং বাসা বাড়িতে কন্ট্রাকে গ’র্ভপাতের কাজ করেন মমতাজ বলে জানান আয়েশা খাতুন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফুলপুর উপজে’লা স্বা’স্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন নার্স বলেন, মমতাজ বেগমের কাছাকাছি সময়ে চাকরীতে যোগদান করেও তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আর মমতাজ বেগম হাসপাতাল সংলগ্ন জায়গা কিনে ৪তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে এক তলা সম্পূর্ণ করেছেন। ময়মনসিংহ নগরীর চয়না মোড়ে ৬ শতাংশ জমি কিনেছেন। যার বাজার মূল্য কোটি টাকা। তাদের এক মেয়েকে কমিউনিটি

বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিবিএমসিবি) পড়াশোনা শেষ করে ইন্টার্নী করছে। যেখানে ভর্তি হলেই কয়েক লক্ষ টাকা লাগে। তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিক একটি কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষকতা করে সামান্য সম্মানী পান। সব কিছুই মমতাজ বেগম তার অ’বৈধ টাকায় করেছেন। যেসব করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তার ফুলপুর, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া এবং তারাকান্দায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। যাদের মাধ্যমে

গ’র্ভপাতের কাজ গুলো করে থাকেন। একেকটা গ’র্ভপাতের কাজ করতে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। তার এসব কাজের কথা মোটামুটি সবাই জানে। অনেকেই গ’র্ভপাত করাতে গিয়ে স’মস্যায়ও পড়েছেন। কিন্তু মমতাজ বেগম সব কিছুতেই ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
এছাড়াও হাসপাতালে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তিনি ভোগ করে থাকেন। স্থানীয় রুহুল আমিন ও মোহাম্মদ আলী বলেন, ফুলপুর উপজে’লা স্বা’স্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স মমতাজের মতো অনেকেই আঙ্গুল পুলে কলা গাছ হয়েছে। আমরা এর সঠিক ত’দন্ত পূর্বক বিচার চাই। মমতাজের বি’ষয়টি

সামনে আসলেই, বাকিদেরও আসবে। মমতাজের আসকাড়া পেয়েই এ সমাজের অনেক যুবক-যুবতী ন’ষ্ট হয়েছে। অ’ভিযুক্ত নার্স মমতাজ বেগম বলেন, ২৫ বছর ধরে তিনি সুনামের সহিত ফুলপুর উপজে’লা স্বা’স্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরী করছেন। এক সময় তিনি গ’র্ভপাত করানোর কাজ করতেন। এখন বিবেকের তাড়নায় তা আর করছেন না। গ’র্ভপাত করানোর টাকা দিয়েই ফুলপুরে একতলা বাড়ি এবং ময়মনসিংহ শহরে কিছু জায়গা কিনেছেন। তবে তিনি অন্যায় কিছু করেননি বলেও দাবি করেন। অ’ভিযুক্ত নার্স মমতাজ বেগমের স্বামী আবু বকর সিদ্দিক বলেন,

তিনি ফুলপুরে একটি কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষকতা করছেন। প্রাইভেট শিক্ষক হিসেবে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে সংসারে স্ত্রীর পাশাপাশি তিনিও সহযোগিতা করছেন। একসময় তার স্ত্রী গ’র্ভপাত করালেও বছর দুয়েক ধরে তা আর করছেন না বলে দাবি করেন আবু বকর সিদ্দিক। ফুলপুর উপজে’লা স্বা’স্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক প্রা’ণেশ চন্দ্র পন্ডিত বলেন, তিনি যোগদান করার পর গ’র্ভপাত করানো নিয়ে মমতাজ বেগমের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ আসলে তা ত’দন্ত করে সত্যতা পায়। এ বি’ষয়ে তাকে সতর্কও করা হয়। এসব

করবে না বলে সে অঙ্গীকারও করে। তার জানামতে মমতাজ এখন গ’র্ভপাত করে না। তবে যদি কোন প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান এই চিকিৎসক। বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সভাপতি লুৎফুর রহমান বলেন, একজন নার্সের দায়িত্ব রো’গীর সেবা করা। গ’র্ভপাত করানো তার দায়িত্ব না। তবে এ বি’ষয়ে সে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হলে চিকিৎসকের অনুমতি ক্রমে করতে পারবে। অন্যথায় সে অ’পরাধী বলে গণ্য হবে। ময়মনসিংহ জে’লা সিভিল সার্জন এবিএম মসিউল আলম বলেন, চিকিৎসকের অনুমতি ক্রমেই একজন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত গ’র্ভপাত করাতে পারেন। তবে কেউ গণহারে এসব করতে পারবে না।

মমতাজ বেগমের বি’ষয়টি ত’দন্ত করে দেখা হবে। যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *