Categories
Uncategorized

কুড়িয়ে পাওয়া ২০ লাখ টাকা ব্যবসায়ীকে ফিরিয়ে দিলো রিকশাচালক লাল মিয়া

রিকশায় ফেলে যাওয়া ব্যবসায়ীর ২০ লাখ টাকার ব্যাগ ফেরত দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বগুড়ার রিকশাচালক লাল মিয়াও

(৫৫)। তিনি বগুড়া শহরের মালগ্রাম মধ্যপাড়ার মৃ’ত মমতাজ উদ্দিনের ছে’লে। শুক্রবার শহরের সাতমা’থায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পু’লিশ সুপারের উপস্থিতিতে টাকাগুলো বুঝে নেন ওই ব্যবসায়ী। পু’লিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সার ব্যবসায়ী রাজিব প্রসাদ বগুড়ার নন্দীগ্রাম

উপজে’লার রণবঘার দ্বীননাথ প্রসাদের ছে’লে। একই এলাকায় তার প্রসাদ অ্যান্ড সন্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সন্তানের লেখাপড়ার স্বার্থে তিনি বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলার ভাড়া বাসায় থাকেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাবার জন্য শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তিনি বাসা থেকে লাল মিয়ার (৫৫) রিকশায় ওঠেন। তার কাছে একটি ব্যাগে প্রায় ২০ লাখ টাকা ও অন্য দুটিতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল। তিনি রিকশা থেকে

শহরের সাতমা’থায় নেমে সেখানে বাসে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর টের পান তার টাকার ব্যাগ রিকশায় ফেলে এসেছেন। তিনি বাস থেকে নেমে টাকা খোয়ানোর বিষয়টি সদর থা’না পু’লিশকে অবহিত করেন। ওসি এসএম বদিউজ্জামান এ ব্যাপারে এসআই জহুরুল ইস’লামকে দায়িত্ব দেন। পু’লিশ কর্মক’র্তা শহরে গোগাইল রোড এলাকার একটি দোকানের সিসি

ফুটেজ সংগ্রহ করেন। এরপর অন্য চালক ও ব্যবসায়ীকে দিয়ে রিকশাচালক লাল মিয়াকে সনাক্ত করেন এবং তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
এদিকে রিকশাচালক শহরের মালগ্রাম মধ্যপাড়ার মৃ’ত মমতাজ উদ্দিনের ছে’লে লাল মিয়া সিটে থাকা ব্যাগ দেখে তা খোলেন এবং ভেতরে টাকা দেখতে পান। তখন তিনি রিকশা চালিয়ে ব্যবসায়ী রাজিব প্রসাদকে খোঁজাখুঁজি করেন।

তাকে না পেয়ে তিনি শহরের মালগ্রাম এলাকার ভাড়া বাসায় গিয়ে টাকার ব্যাগ রাখেন। এরপর শহরের খান্দার এলাকায় এসে টাকা হা’রানোর মাইকিংয়ের জন্য অ’পেক্ষা করেন। এক পর্যায়ে সদর থা’নার এসআই জহুরুল ইস’লাম খান্দার গেলে রিকশাচালক লাল মিয়াকে দেখতে পান। তখন লাল মিয়া ব্যাগ ও টাকার বর্ণনা শোনার পর সেটি তার বাড়িতে

থাকার কথা জানান। পু’লিশ বাড়িতে গিয়ে টাকার ব্যাগসহ রিকশাচালক লাল মিয়াকে পু’লিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসে। সেখানে থাকা ব্যবসায়ী রাজিব প্রসাদ রিকশাচালক লাল মিয়াকে সনাক্ত করেন। তখন পু’লিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা টাকাগুলো ব্যবসায়ীকে দেন। ব্যবসায়ী রাজিব প্রসাদ জানান, কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তিনি লাল মিয়াকে একটি নতুন রিকশা কিনে দেবেন। তিনি সদর থা’নার ওসিকে ৫০ হাজার

টাকা দিয়েছেন। আগামী রোববার পু’লিশের মাধ্যমে লাল মিয়াকে একটি রিকশা ও একটি মোবাইল ফোন উপহার দেয়া হবে। রিকশাচালক লাল মিয়া জানান, তিনি গরীব হলেও পরের অর্থ-সম্পদের প্রতি লো’ভ নেই। ভাড়া রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট দুই ছে’লে তার সঙ্গে থাকেন। রিকশায় ফেলে

যাওয়া টাকাগুলো তিনি মালিককে ফেরত দিতে পেরে দায়মুক্ত হয়েছেন। ওই ব্যবসায়ী প্রতিদান হিসেবে তাকে নতুন রিকশা কিনে দিতে চাওয়ায় তিনি খুব খুশি হয়েছেন। এখন তাকে আর পরের ভাড়া রিকশা চালাতে হবে না। সংসারের অভাব দূর হবে। বগুড়া সদর থা’নার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, আগামী রোববার লাল মিয়াকে একটি নতুন রিকশা ও একটি মোবাইল ফোন

উপহার দেয়া হবে। টাকাগুলো ফেরত দিয়ে রিকশাচালক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে টাকার মালিক ব্যবসায়ী রাজীব প্রসাদ জানান, তিনি নন্দীগ্রামের রনবাঘা বাজারে সারের ব্যবসা করেন। বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় বসবাস করেন। শুক্রবার সকাল সোয়া ৭ টার দিকে জলেশ্বরীতলা কালীবাড়ি মোড় এলাকা থেকে একটি রিকশায় উঠে সাতমা’থায় রাজশাহী রুটের বাস ধ’রার জন্য নামেন। তার সঙ্গে ছিল তিনটি ব্যাগ। কিন্তু ভুলবশত এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগটি তিনি রিকশায় ফেলে যান। ১০ মিনিট পর ব্যাগটির কথা মনে হলে তিনি

সাতমা’থা এলাকায় রিকশাচালককে খুঁজতে থাকেন। না পেয়ে এরপর তিনি দ্রুত বিষয়টি বগুড়া সদর থা’না পু’লিশকে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *