Categories
Uncategorized

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুও হবে নিজস্ব অর্থায়নে!

প্রথম পদ্মা সেতুর কাজ শেষের দিকে। এতো সব জটিলতার পর পদ্মা সেতুর কাজ শেষ পর্যায়ে হওয়ায় আশার আলো দেখছেন দেশবাসী। আর

তাই এবার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়েও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে মানুষ। তবে সরকারের পক্ষ থেকেও মিলেছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ইঙ্গিত। প্রথমটির মতোই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুও নিজস্ব অর্থায়নেই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বাজেটের আগেই এ সেতুর

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের চূড়ান্ত জরিপ করা হবে। একই সঙ্গে প্রথম পদ্মা সেতুর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ডিজাইন করা হবে। এদিকে বহুল আলোচিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ এগোচ্ছে দ্রুত গতিতে। এখন পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের ৮২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মূল সেতুর কাজের ভৌত অগগ্রতি হয়েছে ৯১ শতাংশ।

বসানো হয়েছে সবকটি স্প্যান। যা উন্নয়নের একটি অন্যতম মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এরই মধ্যে সামনে চলে এসেছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর আলোচনা। যদিও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনাও করা হয়েছিল প্রায় ১১ বছর আগে। এবার ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটের আগেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রকল্পের চূড়ান্ত জরিপ প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন

করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) নিয়ে কাজ করছে সেতুবিভাগ। মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, এ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে সম্মতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তবে সরকার একক বা যৌথ অর্থায়নকারী হিসেবে কোন সংস্থাকে বেছে নেবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক ও

এডিবির সঙ্গে সরকারের একাধিকবার আলোচনাও হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, প্রথম পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক তাদের অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নেয়। এতে সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হলে সেতুর বাস্তবায়ন কাজ পিছিয়ে যায়। একই সঙ্গে সরকার আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের মুখে পড়ে। যদিও পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের সেই অপবাদ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ওই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে আমলে নিয়ে দ্বিতীয়

পদ্মা সেতু নিয়ে কিছুটা ধীরেই চলছে সরকার। নতুন করে আর কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে চায় না সরকার। এমনকি কোনো অর্থায়নকারী স্বেচ্ছায় এগিয়ে না এলে নিজস্ব অর্থায়নেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুও বাস্তবায়নের এক রকম পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রয়োজনে রিজার্ভের অর্থও এখানে কাজে লাগানো হতে পারে। আবার পাবলিক প্রাইভেট

পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতেও এগোতে পারে সরকার। একাধিক সম্ভাব্য বিকল্প রেখেই এগোচ্ছে সরকার। সূত্র জানায়, প্রথম পদ্মা সেতুর মতো দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে পাশে থাকতে চায় চীন। এ নিয়ে চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এর আগে পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে জাইকা তাদের বিস্তারিত সমীক্ষায় চারটি

স্থানকে সুবিধাজনক হিসেবে চিহ্নিত করে। এগুলো হলো-পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ, দোহার-চরভদ্রাসন, মাওয়া-জাজিরা ও চাঁদপুর-ভেদরগঞ্জ। এর মধ্যে মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে দেশের বৃহত্তম পদ্মা বহুমুখী সেতু বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে পাটুরিয়া- গোয়ালন্দ পয়েন্টে হবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু। এ সেতু নির্মাণ হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা,

রাজবাড়ীর সড়ক যোগাযোগের দূরত্ব কমে আসবে। গোপালগঞ্জ, যশোর ও মাদারীপুর জেলার অংশবিশেষের দূরত্বও কমবে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথম পদ্মা সেতু জনসাধারণ ও সরকারের বিরাট স্বপ্ন। সেটা এখন প্রায় শতভাগ বাস্তব রূপ নিয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ব্যাপারেও সরকার পরিকল্পনা করছে অনেক দিন আগে থেকেই।

এটাও হবে একটি নতুন স্বাপ্নিক প্রকল্প। জানা গেছে, প্রস্তাবিত এ সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১০ কিলোমিটার। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১২১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের প্রস্তাব ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম দিকে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। সে সময় অবশ্য দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছিল ৫ কিলোমিটার। পরে এর দৈর্ঘ্য বেড়ে

যাওয়ায় নির্মাণ ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। তবে এই ব্যয় আরও বাড়বে জানিয়েছেন সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *