Categories
Uncategorized

ভারত যার বন্ধু তার শ’ত্রুর দরকার হয় না, বাংলাদেশের সাথে আবারো প্রমাণ করলো

সাম্প্রতিক সময়ে উপমহাদেশে একটি বহুল প্রচলিত কথা হলো, ভারত যার বন্ধু তার শ’ত্রুর দরকার হয় না। শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, নেপালে এই

আত্ম বাক্যটি সবচেয়ে সত্য বলে বিবেচনা করে সে দেশের জনগণ। এখন বাংলাদেশের মানুষও বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, ভারত বন্ধু হলে আর শ’ত্রুর দরকার নেই। ভ্যাকসিন নিয়ে ভারতের ইউটার্নের পর বাংলাদেশের মানুষের আলোচনার বিষয় ভারতের ছলনা এবং প্র’তার’ণা।

দু’মাস আগে ঘটা করেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়ে দিলো, অক্সফোর্ড আবিস্কৃত, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন কেনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। এই উপমহাদেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন উৎপাদন করছে ভারতের সিরাম কোম্পানী। বাংলাদেশের ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো, সিরামের কোভিড ভ্যাকসিন বাংলাদেশে বিপনণের দায়িত্ব পায়।

সে অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার-ভারত এবং সিরামের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যেখানে সিরামের প্রতিনিধি ছিলো বেক্সিমকো। ইতিমধ্যে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন ব্যবহার শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। ভারতেও এই ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ভারতে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে। সে অনুযায়ী এখন ভারত জুড়ে মহড়া চলছে। এরমধ্যেই ভারত ঘোষণা করেছে যে তারা

ভ্যাকসিন রপ্তানি করবে না। ভারতের এই আচ’মকা ঘোষণার পর বাংলাদেশের নীতি নির্ধারকরা চ’মকে উঠেছেন কারণ সিরামের ভ্যাকসিন নেবার জন্যই বাংলাদেশ আর কোনো টিকার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। যদিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুজনই বলেছেন, ভারতের এই ঘোষণা বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন ভ্যাকসিন ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের মন্ত্রীরা আশ্বাসের বাণী শোনালেও ভারতের পক্ষ থেকে এব্যাপারে কোনো ঘোষণা বা আশ্বাস দেয়া হয়নি। ভারতের জন্য বাংলাদেশের ব্যাপারে এধরনের আচরণ নতুন নয়। এর আগেও পিয়াজ নিয়েও ভারত একই কান্ড করেছে। নিজের স্বার্থের জন্য ভারত সব কিছুই করতে পারে। বলা হয়, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বিষয়েই ভারত বন্ধুত্বের মর্যাদা রাখতে পারেনি। ভারতের বন্ধুত্ব কেবল স্বার্থ উ’দ্ধারের ছলনা যেন। আর

আশ্বাস দিয়ে ‘প্রতারণা’ই যেন ভারতের কূটনীতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। ভারত এবারও কি তারই প্রমাণ দিচ্ছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *