Categories
Uncategorized

আমাদের আর টাকার প্রয়োজন নেই : ঢাকা চেম্বার সভাপতি

‘টাকা আমাদের আর প্রয়োজন নেই। আমরা নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু করেছি। আমাদের মেট্রোরেল হচ্ছে। আমরা অনেক কিছু করতে পারি’

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) মতো স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। তিনি বলেছেন, টাকা আমাদের আর প্রয়োজন নেই। আমরা নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু

করেছি। আমাদের মেট্রোরেল হচ্ছে। আমরা অনেক কিছু করতে পারি। আমরা প্রযুক্তি আনবো। আমরা বিশেষজ্ঞ তৈরি করবো। দেশের সমসাময়িক অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি এবং ২০২১ সালে ডিসিসিআইর বর্ষব্যাপী কর্ম-পরিকল্পনা নিয়ে শনিবার (২৩ জানুয়ারি) ডিসিসিআই ভবনে আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজওয়ান রাহমান বলেন, আমাদের অর্থনীতির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে অর্থনীতিতে এফডিআইর অবদান কতোটুকু এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের অবদান কতোটুকু। অভ্যন্তরীণ ঋণে বড় বড় বিনিয়োগ হচ্ছে। বৃহৎ এফএমসিজি (ফার্স্ট মুভিং কনজিউমার গুডস), অনেক বড় বড় আইটি কোম্পানি স্থানীয় ঋণে হচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগে নয়। তিনি বলেন, আমরা এফডিআইকে যেভাবে আকর্ষণ করি, একইভাবে যেন স্থানীয়

বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করি। তাদের (স্থানীয় বিনিয়োগকারী) কাছেও সেই সামর্থ্য আছে। আমরা নিজেরা পদ্মা সেতু করে ফেলেছি। আমরা মেট্রোরেল বানাচ্ছি। আমরা অনেক কিছুই করতে পারি। এখন আমাদের প্রযুক্তি আনতে হবে। দক্ষতা বাড়াতে হবে। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি জানান, শিল্পখাতের চাহিদা মাফিক দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির লক্ষ্যে শিল্প ও শিক্ষাখাতের মধ্যকার সমন্বয়

বাড়াতে ডিসিসিআই ইতোমধ্যে ১২টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। ডিসিসিআই আশা প্রকাশ করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠ্যক্রম যুগোপযোগীকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন,

এই অর্থবছরে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। এফডিআই এসেছে ২ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার এবং রেমিট্যান্স এসেছে ১৮ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। তিনি জানান, জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে সার্ভিস সেক্টর। জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়ে ৫১ দশমিক ৩০ শতাংশ

হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শিল্প খাতের অবদান ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে ৩৫ দশমিক ৩৬ শতাংশে উঠে এসেছে। কর্মসংস্থান হয়েছে ৬০ দশমিক ৮০ মিলিয়ন এবং বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২০ শতাংশ। রিজওয়ান রাহমান বলেন, কোভিড-১৯ এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) জন্য ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৪ দশমিক ১৩ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে।

সিএমএসএমইরা যাতে প্রণোদনার অর্থ পান সে জন্য ডিসিসিআই হেল্প ডেস্ক খুলেছে এবং সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সেইভাবে সুযোগ পায় না। ঋণের ক্ষেত্রে মিডিয়ামরা ১০, ২০, ৩০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে চলে যাচ্ছে। অথচ একটা কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ ১০ লাখ টাকার ঋণ পাচ্ছে না। আমরা কিছু করতে পারবো না, আওয়াজ দিতে পারবো। আমরা আওয়াজ দিয়ে যাবে। এ জন্য আমরা এসএমইকে কেন্দ্র করে একটি বন্ড বা ব্যাংক করার প্রস্তাব

সরকারকে দিতে চাই। রিজওয়ান রাহমান তার নির্ধারিত বক্তব্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ শতাংশ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ শতাংশ করপোরেট ট্যাক্স কমানোর দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয় আপনারা প্রতিবছর ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব দেন, কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়ন করে না। তাহলে কি আপনাদের প্রস্তাব অযৌক্তিক উত্তরে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমাদের প্রস্তাব অযৌক্তিক না। আমরা প্রস্তাব দিয়ে যাব। তবে প্রস্তাবের সঙ্গে ট্যাক্স কমানো হলে কী সুবিধা হবে তাও দেখাতে হবে। আমরা আশা করি এবার আমরা ভালো ফল পাবো। এ সময় বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করতে হবে। পুঁজিবাজার থেকে টাকা না তুলে বন্ড মার্কেট থেকে টাকা তুললে পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের উৎপাদিত পণ্যের বেশির ভাগই রফতানি হয় আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহে, যারা করোনা মোকাবিলায় বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে এ অঞ্চলের দেশসমূহ থেকে আমাদের রফতানি পণ্যের অর্ডার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমাদেরকে এশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহের প্রতি আরও বেশি মাত্রায় নজর দিতে হবে। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ডিসিসিআইর পক্ষ থেকে এ বছর এশিয়া অঞ্চলে ‘ডিসিসিআই ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিসিসিআই জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এন কে এ মবিন, সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন, পরিচালক

মো. শাহিদ হোসেন, গোলাম জিলানী, হোসেন এ সিকদার এবং নাসিরউদ্দিন এ ফেরদৌস মিট দ্যা প্রেসে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *