Categories
Uncategorized

শরী’রে পচ’ন নিয়ে কা’তরাচ্ছেন পুলিশ একাডেমির সাবেক ঘোড়সওয়ার

রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পু’লিশ একাডেমির ঘোড়সওয়ার ছিলেন দুলাল কুমা’র। বছর বিশেক আগে ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে

আ’ঘাত পেয়ে চাকরি ছাড়তে হয়। ওই দুর্ঘ’টনার পর পায়ের হাড়ে ক্ষয় ধরলে দেশে-বিদেশে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন। সুস্থভাবে সুখে-শান্তিতেই জীবন কাটছিল এরপর। কিন্তু মাস দেড়েক আগে সাইকেলে উঠতে গিয়ে সামান্য আ’ঘাতে সেই সুখের জীবনে ছেদ পড়ে। ওই আ’ঘাতের পর

রাজশাহীর একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরাম’র্শে ওষুধ সেবন করেন। কিন্তু তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিতে শুরু করে ছোট-বড় ফোস্কা।এরপর রাজশাহীর চিকিৎসায় কাজ না হলে রাজধানীতে চিকিৎসা নেন। তবে লাভ হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, র’ক্তকণা জমাট বেঁধে বড় একটি র’ক্তনালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার ডান পায়ে পচন ধরেছে।

মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পচন হাঁটু ছাড়িয়ে যায়। সংক্রমণ থামাতে গত ২৩ জানুয়ারি তার একটি পা কে’টে ফেলেন চিকিৎসকরা। এক পা হা’রানোর পরেও মনোবল কমেনি দুলাল কুমা’রের। সুস্থভাবে বাঁচতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার বেঁচে থাকা’টাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এখন। বড় বড় ফোস্কায় ছেয়ে গেছে পুরো শরীর। নতুন করে গভীর ক্ষত দেখা দিয়েছে বাম পা, দুই হাত এবং কে’টে ফেলা ডান পায়ের বাকি

অংশেও ছড়িয়েছে ক্ষত। শরীরের বেশকিছু জায়গায় পচনও দেখা দিয়েছে। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতা’লের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন দুলাল। অসহনীয় যন্ত্র’ণা নিয়ে বেডে জায়গা না পেয়ে কাতরাচ্ছেন বারান্দায়। এদিকে, এক ছে’লে, দুই মে’য়ে, ছোট ভাই ও বাবাসহ সাত সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন অবস্থায় দিশেহারা হয়ে

পড়েছেন স্বজনরা।তাদের অ’ভিযোগ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ই তার এমন অবস্থা। দুলালের স্ত্রী’ চ’ম্পা রায় জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তার স্বামী। তার এমন অবস্থায় তারা ভেঙে পড়েছেন। দুলালের বোন রিতা রাণী জানান, ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ঘরবাড়ি বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা খরচ করে ভা’রতের চেন্নাই থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন ভাই। এরপর প্রায় ১৮ বছর ধরে সুস্থভাবে জীবনযাপন করছিলেন। গত

মাসের শেষের দিকে সাইকেল চালাতে গিয়ে তার পা মচকে যায়। রাজশাহীর একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরাম’র্শে ওষুধ খাচ্ছিলেন। এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।রিতা আরও অ’ভিযোগ করেন, হাসপাতা’লে তার ভাই কোনো বেড পাননি। চিকিৎসক বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন বেড ব্যবহার করতে বললেও থাকতে হচ্ছে ওয়ার্ডের বারান্দায়। এ বিষয়ে রামেক হাসপাতা’লের বার্ন ইউনিটের প্রধান

সহকারী অধ্যাপক ডা. আফরোজা নাজনীন আশা বলেন, এই রোগীর রিপোর্ট দেখা জানা গেছে, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে হাড়ের ক্যানসারে ভুগছেন। গত ১৮ বছর ধরে তিনি সুস্থই ছিলেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। হঠাৎ ডিসেম্বরের দিকে পায়ে আ’ঘাত পেয়েছিলেন। এরপর একজন চিকিৎসকের পরাম’র্শে ওষুধ সেবন করছিলেন। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেই নাকি এমনটা হয়েছে। তিনি বলেন, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতেই পারে। সাধারণ প্যারাসিটামলেও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে তাতে এমনটা হয়েছে বলে মনে হয় না।ডা. আফরোজা আরও বলেন,

ওই রোগীকে কিছু সাধারণ ওষুধই দেয়া হয়েছিল। আসলে একটি র’ক্ত কণা তার ডান পায়ের সবচেয়ে বড় র’ক্তনালীকে ব্লক করার কারণে তার পায়ে পচন ধরতে শুরু করে। এজন্য তার ডান পা কে’টে ফেলতে হয়েছে। তিনি বলেন, এই ব্লকটা যাদের হার্টের রোগ কিংবা বংশানুক্রমিক আছে তাদের হয়ে থাকে। অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াও হতে পারে। ক্যানসারের এই সংক্রমণটা তার অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়ছে। তার হাতের অ’পারেশন করতে হবে। পিঠের নিচের অংশেও অ’পারেশন করতে হবে। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা খুবই খা’রাপ। আম’রা

আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় স্থা’নান্তর করা হবে। সূত্রঃ জাগোনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *