Categories
Uncategorized

৯ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে হয়েছিল জান্নাত আরা ঝর্ণার

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি রিসোর্টে অবরু’দ্ধ থাকার পর থেকে

এখন পর্যন্ত আলোচনায় আছেন। তিনি মু’ক্ত হলেও এখন পর্যন্ত ঘটনা একের পর এক বাক নিচ্ছে। রিসোর্টের খাতায় গেস্টের নামের স্থানে লেখা রয়েছে মো. মামুনুল হক ও আমিনা তৈয়বা। রুম নং ৫০১। এ সময় রিসোর্টে প্যাকেজ নেন উন্টার। রুম ভাড়া ৫ হাজার এবং খাবার

খরচ ৩ হাজার টাকা। এছাড়াও মামুনুল হকের এনআইডি কার্ডের কপিও পাওয়া যায়। রিসোর্টে প্রবেশের সময় লেখা হয় দুপুর ৩টা। শনিবার বিকেলে রিসোর্টের ৫ম তলার ৫০১ নম্বর কক্ষে তাকে অবরু’দ্ধ করা হয়। জানাগেছে, হেফাজতে ই’সলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের স’ঙ্গে থাকা সেই না’রী হলো জান্নাত আরা ঝর্ণা। সেই না’রীর সঠিক পরিচয় মিলেছে।

আলোচিত সেই না’রী জান্নাত আরা ঝর্ণা (২৭)। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজে’লার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রামের বীরমু’ক্তিযো’দ্ধা মো. ওলিয়ার রহমান ওরফে ওলি মিয়ার মেঝো মেয়ে। ওলিয়ার রহমান কামারগ্রাম ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
মামুনুল হক ওই না’রীর নাম আমেনা তৈয়াবা বললেও ওই না’রী নিজেকে জান্নাত আরা বলে প’রিচয় দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

ফেসবুক ও গ’ণমাধ্যমে প্র’চারের পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। উপজে’লাজুড়ে এখন ঝর্ণাকে নিয়েই চলছে আলোচনার ঝড়।
তবে জান্নাতের আগে বিয়ে হয়েছে, দুটি স’ন্তানও আছে, এ কথা সবাই জানলেও দ্বিতীয় বিয়ের কোনো খবরই জানেন না এলাকাবাসী। এদিকে সরেজমিনে রোববার (৪ এপ্রিল) সকালে ঝর্ণার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার

পিতা ওলিয়ার রহমান ও মাতা শিরীনা বেগমের স’ঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মেয়ে জান্নাত আরা ঝর্ণার নয় বছর বয়সে বিবাহ হয়েছিল হাফেজ শহীদুল ই’সলাম ওরফে শহীদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তার বাড়ি বাগেরহাটের কচুড়িয়া এলাকায়। তাদের আব্দুর রহমান (১৭) ও তামীম (১২) নামে দুজন পুত্রস’ন্তান রয়েছে। প’রিবার সূত্রে জানান, পারিবারিক কলহের জেরে আড়াই বছর আগে

তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। তারপরে দু’বছর আগে পরিবার থেকে পাত্র দেখে মেয়েকে বিবাহ করার কথা বললে সে বলত তার বিবাহ হয়ে গেছে, তাই তার জন্য আর কোনো পাত্র না দেখতে। তবে কার স’ঙ্গে সে বিবাহবন্ধনে আব’দ্ধ হয়েছে, সে কথাটি পরিবারকে জানায়নি কখনো। শুধু একবার ভিডিও কলে তার দ্বিতীয় স্বামী মামুনুল হককে দেখিয়েছিল কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি তিনি ছিলেন মাওলানা মামুনুল হক। প্রথম স্বামী হাফেজ শহীদুল ই’সলাম ওরফে শহীদু’ল্লাহর সঙ্গে

জান্নাত আরা ঝর্ণার প’রিবারের কোনো যোগাযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তারা জানান, ডিভোর্সের পরে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ রাখেনি তারা। তাই হাফেজ শহীদুল্লাহর স’ঙ্গে যোগাযোগের কোনো মাধ্যম না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোনায়েম খান জানান, ঝর্ণার বাবা ওলিয়ার রহমান একজন সহজ সরল মানুষ।

কামারগ্রাম চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার মেয়ের আগে বিয়ে হয়েছে। তার দুই ছেলেও আছে, পরে বিয়ে হয়েছে কিনা জানি না। এলাকার কেউ জানে বলেও মনে হয় না। এসিকে সর্বশে’ষ ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাওলানা মামুনুল হক লিখেন, হাফেজ শহিদুল ই’সলাম আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের একজন। সাংগঠনিক কাজে আমার দু-চারজন সহযোগীর অন্যতম। বেশ পুরোনো আমাদের সম্পর্ক । সম্পর্কের গভীরতা পারিবারিক পরিধি পর্যন্ত। পরিবারসহ একে অপরের বাসায় যাতায়াত আমাদের দীর্ঘদিনের।

সেই সূত্রে তার পারিবারিক অভিভাবকত্ব করতাম আমি ।পারিবারিকভাবে খুঁটিনাটি বিষয়ে পরাম’র্শের জন্য তারা আমার দ্বারস্থ হত। দুই স’ন্তানের ছোট সংসার নিয়ে চলছিল তাদের জীবন। একটা পর্যায়ে এসে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে শুরু হয় মনোমালিন্য। মনোমালিন্য থেকে বাদানুবাদ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু। আজ থেকে তিন বছর আগের কথা। তখন তাদের সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক চে’ষ্টা করেছি আমি। তাদের উভয়ের সাথে কথা বলি। কিন্তু কোনভাবেই আর সেটি সম্ভব হয়নি।

ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় তাদের। ছাড়াছাড়ির পর দ্বিতীয় সংসার শুরু করেন হাফেজ শহীদুল ইসলাম। সেই বিবাহ আমি পড়াই। তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সুখে শান্তিতে দিনাতিপাত করছেন। সেই ঘরে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে আরেকটি স’ন্তান। অপরদিকে হাফেজ শহীদ ভাইয়ের স্ত্রী হয়ে যায় অনেকটা অসহায়। এক রকমের কূলকিনারাহী’ন। রাগের মাথায় সংসার ভে’ঙে গভীর সংক’টে পড়ে যান তিনি। ওই পরিস্থিতিতে তার জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক ভাবেই তিনি আমার শরণাপন্ন হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে পরাম’র্শ নেন। আর সেই দুঃসময়ে সহযোগিতা করার মত আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না তার। ই’সলামী দৃষ্টিকোণ এবং অভিভাবকত্বের জায়গা

থেকে আমি তার অর্থনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করি। জীবনের করণীয় বিষয়ে দিক নি’র্দেশনার জন্য নিয়মিতই আমার সাথে যোগাযোগ রাখতে হয় তাকে। এমতাবস্থায় একজন বেগানা না’রীর সাথে এভাবে সম্পর্ক রাখাকে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে আমার কাছে ঝুঁ’কিপূর্ণ মনে হয় । তখন আমি সিদ্ধান্ত নেই, যত দিন তার অভিভাবকত্বের প্রয়োজন হবে আমার, তাকে বেগানা হিসেবে রেখে অভিভাবকত্ব করবনা ,বরং ই’সলামী শরীয়তের আলোকে বৈধ একটা সম্পর্ক তৈরি করেনিব। বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্টজনদের সাথে কথা বলি এবং এ বিষয়ে তাদেরকে জানিয়ে

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী বিবাহের কালেমা পড়ে বিবাহ করে নেই। দু বছর যাবত এভাবেই মানবিক ও ই’সলামী দৃষ্টিভ’ঙ্গির আলোকে আমি তার অভিভাবকত্ব করছি এবং একজন অ’সহায় না’রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে একটি পুণ্যের কাজ করেছি বলে বিশ্বাস করি। আমি যা বললাম এটা আ’ল্লাহর নামের হাজার বার শপথ করে বলতে পারব। বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য কুল্লামার শ’পথ করতে পারি। বিষয়টি খোলাসা করার পরেও যুবলীগ আওয়ামী লীগের গুন্ডারা আমার সাথে যে অ’মানবিক আ’চরণ করেছে এবং হা’মলা করেছে, গায়ে হাত তুলেছে আমি এর বিচার চাই আ’ল্লাহর কাছে প্র’শাসনের কাছে এবং জনগণের কাছে। পু’লিশের উপস্থিতিতে তাদের

এই হা’মলা ও আ’চরণ প্র’মাণ করে বর্তমানে বাংলাদেশে মান-সম্মান কিংবা জীবনের নি’রাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করা সম্ভব না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *