Categories
Uncategorized

ডিভোর্সি-নিঃসন্তান জান্নাত পাত্র চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে কোটিপতি

পাত্র চেয়ে পত্রিকায় মনলোভা বিজ্ঞাপন দেয়া হতো। কানাডা প্রবাসী শর্ট ডিভোর্সি অথচ নিঃসন্তান সুন্দরী নারীকে বিয়ে করে বিদেশে আয়েশি

জীবনের সেই হাতছানি এড়ানো মুশকিল বৈকি! ফলে খুব সহজেই শিকার ধরাশায়ী করতেন জান্নাত ও তার সহযোগীরা। এরপর ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিতেন কোটি কোটি টাকা। এভাবে জান্নাত অন্তত ২০ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। তবে প্রতারণার শিকার একজনের অভিযোগের

পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রতারক চক্র এখন পুলি’শের খাঁচায়। প্রতারণার অভিযোগে জান্নাতসহ পাঁচজনকে গ্রে’প্তার করেছে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন (সিআইডি)। মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন সিআইডির মিডিয়া কর্মকর্তা সিনিয়র এসপি জিসানুল হক।
গ্রে’প্তারকৃতরা হলেন- সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল, জান্নাতের দ্বিতীয়

স্বামী হাসান ওরফে জিহাদ, সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ, ফিরোজ মিয়া ও তামান্না। সিনিয়র এসপি জিসান জানান, বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগে জান্নাত নামের এক নারী ও তার স্বামী এবং তিন সহযোগীকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। এসএসসি পাস করতে না পারা জান্নাত প্রতা’রণায় পিএইচডি। এ পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তিনি। প্রথম

স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা স্বামীকে নিয়ে নামেন এই প্রতারণায়। তিনি জানান, চলতি বছরের আগস্ট মাসে একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কানাডার নাগরিক, ডিভোর্সি সন্তানহীন, নামাজি পাত্রীর জন্য ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বয়স্ক পাত্র চেয়ে একটি বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। আগ্রহীদের একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে বারিধারার একটি বাড়িতে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

পরে সিআইডির কাছে অভিযোগ দেয়া ভুক্ত’ভোগী নাজির হোসেন ওই বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন। পরে তার সঙ্গে গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে দেখা করেন জান্নাত। এ সময় ভুক্ত’ভোগী নাজির দেড় লাখ টাকা ও পাসপোর্ট তুলে দেন জান্নাতের হাতে।
পরে জান্নাত নাজির হোসেনকে জানান, তিনি নিজেই পাত্রী। কানাডায় দুইশ কোটি

টাকার ব্যবসা আছে। কিন্তু বর্তমানে কানাডায় অনেক শীত থাকায় নাজির হোসেনকে নেয়া যাচ্ছে না। এরপর দেশে ব্যবসার জন্য কানাডা থেকে টাকা আনার কথা বলে ট্যাক্স, ভ্যাট, ডিএইচএল বিল ইত্যাদি খরচের কথা বলে এক কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। জান্নাত এরপর মোবাইল বন্ধ করে দেন। নাজিরের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন। পরে ভুক্ত’ভোগী নাজির হোসেন

এ বিষয়ে সিআইডিতে অভিযোগ করেন। একইভাবে অন্য একজন ভুক্ত’ভোগীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় প্রথমে জান্নাতকে গ্রে’প্তার করে সিআইডি। পরে জান্নাতের কাছ থেকে তিনজন ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট, ১০টি মোবাইল ফোন, তিনটি মেমোরি কার্ড, সাতটি সিল, অসংখ্য সিম, প্রতারণার শিকার হওয়া ভু’ক্তভোগীদের হিসাবের খাতা ও ব্যাংক এশিয়ায় ৪৮ লাখ

টাকা জমা দেয়ার স্লিপ উদ্ধার করা হয় সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, উ’দ্ধার করা খাতায় বিগত দিনের প্রতা’রণার হিসাব ও ভুক্তভোগীদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়। জান্নাতের নেতৃত্বে এই চক্রটি গত ১০ বছর ধরে এমন প্রতা’রণা করে আসছেন। এখন পর্যন্ত সিআইডি তাদের ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে। জান্নাত নিজে কোনো দিন কানাডা না গেলেও কথাবার্তা ও পোশাক আশাক দেখিয়ে মানুষকে তিনি

বিভ্রান্ত করে থাকেন। তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় প্রতারণা ও পাসপোর্ট জালিয়াতি আইনে মা’মলা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *