Categories
Uncategorized

যুক্তরাষ্ট্রে বসেই অফিস করবেন ওয়াসার এমডি

আগামী তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। সেখান থেকেই ভার্চুয়ালি

অফিস করবেন তিনি। ২৫ এপ্রিল থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ছুটি কাটাবেন তিনি। তার ছুটি শুরু হলেও গতকাল তিনি যথারীতি অফিস করেছেন।
কোন কারণে হুবহু এ সময়টি ছুটি কাটাতে না পারলে ছুটির দিন থেকে তিন মাস ছুটি কার্যকর থাকবে। এ তিন মাস ‘প্লাস ট্রানজিট’ হিসাবে

ছুটি কাটাবেন এই কর্মকর্তা। ঢাকা ওয়াসা সূত্রে এ কথা জানা যায়। ‘প্লাস ট্রানজিট’ ছুটির কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তার পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য তিনি এ ছুটি নিয়েছে। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র পানি সংকট চলছে। ঠিক এই সময়ে দীর্ঘ ছুটিতে যাওয়া

নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। বলছেন, পানির চাহিদা মেটাতে এখন রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। এ অবস্থায় এমডি ছুটি না দিয়ে কিছুদিন পরে নিলে ওয়াসার জন্য সুবিধা হতো। ঢাকা ওয়াসার এমডি স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, ‘আমি বহিঃবাংলাদেশে অবস্থানকালীন সময়ে যে কোনো পলিসি প্রণয়ন এবং অন্যান্য বিষয়ের দায়িত্ব নিজে পালন করব। এ জন্য ই-নথি, ই-জিপি, ই-মেইল, ফেস

টাইম/ভাইবার, হোয়াটসআপ/ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগাযোগ করব।’ আরও বলা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসার এমডি যুক্তরাষ্ট্রে ‘প্লাস ট্রানজিট’কালীন সময়ে সংস্থার সকল বিভাগীয় প্রধানগণ নিজ নিজ রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। আর যে কোনো প্রয়োজনে সরাসরি এমডির সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দেশনা গ্রহণকরে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এছাড়া কাজের ধারাবাহিকতা

রক্ষার স্বার্থে ঢাকা ওয়াসার পরিচালক (উন্নয়ন) প্রকৌশলী আবুল কাশেম ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে বিভিন্ন সভায় প্রতিনিধিত্ব করবেন। বিভিন্ন সভায় সংস্থার প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন এবং রুটিন কার্যাদি সম্পন্ন করবেন। জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ যুগাসবদরকে বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রী পর্যায় থেকে অনুমোদিত।

এখানে আইনগত কোনো ব্যত্যয় হচ্ছে না। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির কারণে এখন অফিসের বাইরে থেকেও অফিস করা সম্ভব। এর চর্চাতো ইতিমধ্যে শোনা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি অফিসের কাজে কক্সবাজার গেলে সেখান থেকে ই-ফাইলের কাজ সম্পন্ন করি। কিছুদিন আগে দেশের বাইরে গিয়েছিলেন, তিনি তো কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাননি। সেখান থেকে তিনি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সার্বিক

কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।’ প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসাবে নিয়োগ পান প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। এরপর ধাপে ধাপে সময় বাড়িয়ে তিনি এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। এরমধ্যে কেটে গেছে প্রায় ১২ বছর। শুরুতে তিনি বছরের একটি লম্বা সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটান। সে ধারাবাহিকতায় এবারও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। এবার তার টানা ছুটি অনেক লম্বা। এ ধরনের ছুটিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে কাউকে ভারপ্রাপ্ত বা অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু

প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের বেলায় এটার ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোও এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *