Categories
Uncategorized

ভেরিফিকেশনে ফুল মিষ্টি নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিল- এএসপি !

গত রোববার তাদের বাসায় সরেজমিন ভেরিফিকেশন করতে গিয়ে তাদেরকে ফুল ও মিষ্টি নিয়ে

শুভেচ্ছা জানান চট্টগ্রাম জে’লা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো আনোয়ার হোসেন শামীম।

৩৮তম বিসিএসে গণপূর্ত ক্যাডারে সুপারিশকৃত একজন প্রার্থী ওয়াহিদ মুরাদ আজম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে

‘পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং এএসপির মিষ্টি’ শিরোনামে একটি পোস্ট করলে তা দেশব্যাপী ব্যাপক ‘আলোচনার জন্ম দেয়।

ওয়াহিদ রাঙ্গুনিয়া উপজে’লাধীন মরিয়ম নগর এলাকার বাসি’ন্দা এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর সাবেক ছাত্র।

কক্সবাজারের ঘটনায় দেশব্যাপী পুলিশের ভাবমূর্তি যখন তলানিতে, তখন পুলিশের এমন অভিনব উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন নেটিজেনরা।

ওয়াহিদ লিখেন, ‘আমার ৩৮তম বিসিএসের পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হলো আজ। ভেরিফিকেশন করতে এসেছিলেন রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের

এএসপি আনোয়ার হোসেন (শামীম আনোয়ার), আমরা এতদিন ধরেই নিয়েছি ভেরিফিকেশন মানেই পুলিশকে ঘুষ দিতে হবে।

কিন্তু আজ আমা’দেরকে অবাক বানিয়ে উল্টো এএসপি শামীম আনোয়ার স্যারই আমার জন্য মিষ্টি ও ফুলের তোড়া উপহার হিসেবে নিয়ে এলেন।

আমা’দের অনেক অনুরোধের পরও এক কাপ চাও খেলেন না। এমনকি এক গ্লাস পানিও না ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশ।

পুলিশে ইতিবাচক পরিবর্তন যে আসছে, তার প্রমাণ আজ হাতেনাতেই টের পেলাম। অনেকে বলবেন,

আমার কাছ থেকে টাকা নেয়নি বলে এবং উপহার দিয়েছে বলেই আজ আমি পুলিশকে ভাল বলছি। কিন্তু না।

মি সত্যিই অবাক হয়ে গেছি, যা ঘটেছে তার ১০% ও আশা করিনি। ঘুষের ব্যাপার না, পুলিশের আচরণ,

অমায়িক ব্যবহার, সত্যি বলছি, সবকিছু মিলিয়ে আ’মাকে উন্নত বিশ্বের পুলিশের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।’

ওয়াহিদ ছাড়াও ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়া উপজে’লার পারুয়া গ্রামের খায়রুন্নেসা স্বাস্থ্য ক্যাডারে,

নটুয়ার টিলা গ্রামের আরা’ফাতু নূর বাঁধন পুলিশ ক্যাডারে, রাউ’জান উপজে’লার সুলতান পুর

গ্রামের জান্নাতুন নাইম শিক্ষা ক্যাডারের সুপারিশকৃত হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে

এক ধরনের ভীতি ও নেতিবাচক মনোভাব কাজ করে থাকে।

মূলত এই ধারণা দূর করতেই চট্টগ্রাম জে’লা পুলিশ সুপার এসএম র’শিদুল হকের নির্দেশনা

অনুযায়ী সুপারিশকৃত বিসিএস ক্যাডারদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।

আর তাছাড়া অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এসব কর্মক’র্তা সারাদেশে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়তে চলেছেন।

তাদেরকে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় আত্মনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করা ও পুলিশের কাজ সম্পর্কে তাদের মনে

ইতিবাচক ধারণা দেওয়াও ছিল এই কর্মকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *