Categories
Uncategorized

হাইকমান্ডের উপর ক্ষোভ, অবশেষে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা দলত্যাগ করলেন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক ভাবে ভালো অবস্থানে নেই। দেশের এই বৃহত্তম রাজনৈতিক দলটির

অসংখ্য নেতাকর্মী বর্তমানে নানা রকম সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। এমনকি দলের মধ্যেও প্রায় সময় নেতাকর্মীদের মিল হচ্ছে না। যার কারণে দলের মধ্যেও বিরোধ দেখা দিচ্ছে। আর এই বিরোধের কারণে প্রায় সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক নেতাকর্মী দল থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

তেমনি এবার অবশেষে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা দলত্যাগ করলেন করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ পেল। তবে হঠাৎ করে কি কারণে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা দলত্যাগ করলেন এমন প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। এই বিষয়ে এবার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেল। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদকের পদসহ দলের সকল পদ থেকে

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। সম্প্রতি সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ঘোষিত কমিটিতে তার মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের স্থান না দিয়ে ‘সুবিধাবাদীদের স্থান’ দেওয়ায় ক্ষু”ব্ধ হয়ে তিনি দল থেকে পদত্যাগের এ ঘোষণা দেন। বুধবার রাত জরুরি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দলের

হাইকমান্ডসহ নীতিনির্ধারকদের তুলাধোনা করেন জামান। এর পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র পাঠান। সংবাদ সম্মেলনে প্রভাবশালী এ নেতা বলেন, আজ থেকে তিনি বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলেও যোগ দেবেন না, তবে মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করবেন।

পদত্যাগপত্রে জামান বলেন, আমি ১৯৮৫ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে বিএনপিতে যুক্ত হই। বিএনপির দুর্দিনে এই দলকে প্রতিষ্ঠা করতে জীবনের সোনালি সময়ে সাধ্যমতো সময় ও অর্থ ব্যয় করেছি। সীমাহীন প্রতিকূলতার মধ্যে দলকে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করেছি। আমি কখনই হালুয়া-রুটির ভাগিদার হইনি। কিংবা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি। উল্টো বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন

সময়ে চারবার কারাবরণ করতে হয়েছে আমাকে। দলের মহাসচিবকে উল্লেখ করে চিঠিতে তিনি আরও লেখেন— আপনার মতো বিজ্ঞ মানুষের স্মরণশক্তি যদি মহান আল্লাহ সঠিক রাখেন, তা হলে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে আমার ও আমার সহযোদ্ধাদের ভূমিকা আপনার মনে থাকার কথা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো— ১৭ আগস্ট সিলেট

জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষিত হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও আমার জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষিত হলো আমার মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে। বুধবার রাতে সিলেট নগরীর মিরাবাজারের একটি অফিসে এ প্রেস ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সহ-ক্ষুদ্র ও ঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।

এ ছাড়া আর উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন লস্কর, ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, মওদুদুল হক, আব্দুর রকিব তুহিন, প্রভাষক রায়হান উদ্দিন, ফয়েজ আহমদ দৌলত প্রমুখ। এর আগে মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল সিলেট

জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। দুই কমিটির প্রত্যেকটিতে ৬১ জন করে নেতা স্থান পেয়েছেন। কমিটির জেলা শাখায় আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল আহাদ খান জামাল ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা দেওয়ান জাকির হোসেন খান। এ ছাড়া মহানগরের আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আজিজুল হোসেন আজিজ।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনেকে মনে করছেন দল পরিচালনা করার জন্য বিএনপিতে উপযুক্ত নেতার অভাব রয়েছে, দলের নেতাকর্মীরা কারো কোনো আদেশ পাচ্ছে না। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বি”রো”ধ দেখা দিচ্ছে। তবে সামনের দিনে বিএনপি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে আশা করছে দলের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে দলের সকল নেতাকর্মী আবারো একত্রিত হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *