Categories
Uncategorized

লন্ডনে প্রবাসী সরকারের প্রস্তুতি: বেগম জিয়া এলেই ঘোষণা?

বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার জন্য বিএনপি কেন মরিয়া তা বোঝা যাচ্ছে এখন লন্ডনে বিএনপি নেতাদের কার্যক্রমে। সারাক্ষণ তারা

নানা রকম ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটাচ্ছে। আর এই ব্যস্ততার প্রধান কারণ হল, লন্ডন থেকে বাংলাদেশে একটি প্রবাসী সরকার গঠন করা।
আর এই গঠনের ক্ষেত্রে মুল নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। তারেক জিয়ার এই ফরমুলা বাস্তবায়নের জন্য একটি

অন্তরায় রয়েছে এখন, তা হল বেগম খালেদা জিয়াকে দেশ থেকে বিদেশে নিয়া আসা। আর এজন্যই অসুস্থতার নাটক সাজিয়ে যেকোনো মূল্য বেগম খালেদা জিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কোন দেশে নেয়ার প্রাণান্তর চেষ্টা চলছে। বিএনপির অন্তত তিনজন নেতা বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া উড়াল দিলেই আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রবাসী

সরকার গঠন করা হবে। এ প্রবাসী সরকারের আদল সম্পর্কেও কিছু ধারনা পাওয়া গেছে এখন। জানা গেছে যে এই প্রবাসী সরকারটি হবে অনেকটা তালেবান স্টাইলের প্রবাসী সরকার। তালেবানরা যেমন কাতারে তাদের প্রবাসী সরকার গঠন করেছিল এবং প্রবাসী সরকার গঠন করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করেছিল, গ্রহণযোগ্যতা এবং স্বীকৃতি

আদায়ের চেষ্টা করেছিল এটি তেমনই হবে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব কিংবা ইউরোপের দেশগুলোর নেতিবাচক মনোভাবের পিছনে শক্তিশালী লবিস্ট গ্রুপ কাজ করছে। এই লবিস্ট গ্রুপ বিএনপি এবং জামাতের অর্থায়নে কাজ করছে। বিভিন্ন প্রত্যক্ষ সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে

বর্তমান সরকারকে হটাতে পুরো অর্থ যোগান দিচ্ছে জামাত। জামাতের প্রবাসী বিত্তবানরা বর্তমান সরকারকে হটাতে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা’ করেছে বলে জানা গেছে। এজন্য যত টাকা লাগুক, তারা টাকা দিতে রাজি হয়েছে। এই বিপুল অর্থ খরচের ফলে তারা দৃশ্যমান কিছু পদক্ষেপও পাচ্ছে। তারা মনে করছে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে

অবস্থান সরকারের বিরুদ্ধে এটি তাদের নিরন্তর প্রচেষ্টার ফল। একইভাবে তারা মনে করছে সামনের দিনগুলোতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ সরকারের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব গ্রহণ করবে। প্রবাসী সরকার গঠন কেন? এরকম প্রশ্নের উত্তরে লন্ডনে বিএনপির কয়েকজন নেতৃবৃন্দ ভাষা ভাষা উত্তর দিয়েছেন।

তারা বলছেন যে, পুরো বিষয়টি তারেক জিয়ার মাথায় এবং তারেক এটার মাস্টার মাইন্ড। তবে তারা যেটি বলছেন যে, এই প্রবাসী সরকার গঠনের মাধ্যমে তারা বর্তমান সরকারকে অসাংবিধানিক এবং অবৈধ সরকার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে চায় এবং তারা এই ইস্যুটিকে জাতিসংঘে নিয়ে যেতে চায়। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে

তারা মনে করে যে একটি নতুন নির্বাচনই গণতন্ত্রের জন্য যথেষ্ট নয়। এর পুরো ব্যবস্থাকে নতুন করে পাল্টে ফেলতে হবে এবং এ নিয়ে তারা আন্তর্জাতিক মহলে একটি লবিং করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মত একটি এগিয়ে যাওয়া এবং স্বল্পোন্নত দেশে পা রাখা দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রবাসী সরকার গঠনের ষড়যন্ত্র কতটা বাস্তবায়িত

হবে সে নিয়ে অনেকের সংশয় রয়েছে। কারণ যেভাবে এ ধরনের প্রবাসী সরকার গঠনের ধারনাটি এসেছে যে দেশগুলোতে একেবারেই গণতন্ত্র নেই বা যে দেশগুলোতে গ্রহণযোগ্য কোন রাজনৈতিক কার্যক্রম নেই। মিয়ানমার বা আফগানিস্তানের মত পরিস্থিতি বাংলাদেশে হয়নি এবং সেটি হবার কোন সম্ভাবনাও নেই। তার শেষ পর্যন্ত প্রবাসী সরকার গঠনের কল্পনাটি

তারেক জিয়ার একটি ব্যর্থ প্রয়াস হিসেবেই প্রমাণ হতে পারে হিসেবেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *