Categories
Uncategorized

প্রত্যাহার হচ্ছে ৭ কর্মকর্তার নিষেধাজ্ঞা?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবসে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা

আরোপ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ট্রেজারী বিভাগ এবং ইমিগ্রেশন বিভাগ পৃথক-পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই নিষেধাজ্ঞার পরে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তাদের বিরুদ্ধে কক্সবাজারে একজন পৌর কাউন্সিলরকে বিচারবহির্ভূত হ’ত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা

পাওয়া গেছে বলে মর্মে অভিযোগ করা হয়েছিল এবং এ সংক্রান্ত ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, এই বিচারবহির্ভূত হ’ত্যাকাণ্ডের কারণে এই সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো। যদিও এই ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা যাচ্ছে যে, এখন ৭ কর্মকর্তার

বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যে সমস্ত কারণে এই সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে প্রধান কারণ হচ্ছে, যে অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল সেই অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের

একটি সূত্র বলছে যে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে দুটি ধাপ থাকে। প্রথমত, এ ধরণের কোন অভিযোগ আসলে সেটি প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হয় এবং প্রাথমিক তদন্তের পরে যদি দেখা যায় যে অভিযোগের আপাত সত্যতা রয়েছে তাহলে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং অধিকতর তদন্ত দেয়া হয়। অধিকতর তদন্ত নিষ্পত্তি হলে চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা

জারি করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সূত্রগুলো বলছে যে, একরাম চৌধুরীকে বিচারবহির্ভূত হ’ত্যাকাণ্ড করা হয়েছে। এই হ’ত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনগুলো যে প্রতিবেদনগুলো দিয়েছে সেই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু ব্যবস্থা গ্রহণের পর

বাংলাদেশস্থ মার্কিন দূতাবাস এবং অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে দেখা গেছে যে, একরাম চৌধুরীর বিচারবহির্ভূত হ’ত্যাকাণ্ডের ঘটনা যেমন সত্য ঠিক তেমনি এই সাতজন কর্মকর্তা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না থাকার বিষয়টিও সত্য। কারণ, এই কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং তারা কোনোভাবেই ওই বিচারবহির্ভূত হ’ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

কাজেই এ ব্যাপারে আরও অধিকতর তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আর এই সমস্ত তথ্য-উপাত্ত গুলো যদি যাচাই-বাছাই করে দেখা হয় যে, আসলে প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে এই সাত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত নন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত

বাংলাদেশ দূতাবাস এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং তারা এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করতে চায় বলে জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন যে, বাংলাদেশ যদি যথাসময়ে এই ব্যাপারে সঠিক তথ্য প্রকাশ করতো তাহলে এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হতো। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে যে,

বাংলাদেশ এখন আগের অবস্থানে নেই। কাজেই এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যেটি সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ দমনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মনে করে যে, বিচারবহির্ভূত হ’ত্যাকাণ্ড বা মানবাধিকারের কিছু কিছু লঙ্ঘন শর্তেও বাংলাদেশ বিশ্বে

উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে কাজ করছে, পাশাপাশি জঙ্গিবাদ এবং উগ্র মৌলবাদ দমনের ক্ষেত্রে সরকার যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে। তাই সার্বিক বিবেচনা করে এখন এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে এই বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত হবে। তদন্তের পর যদি দেখা যায় যে,

প্রত্যক্ষভাবে তারা কেউ সংশ্লিষ্ট নন, তাহলে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আবার আদেশ জারি করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *