Categories
Uncategorized

বেশি কথা বললে তুই বিদেশই যেতে পারবি নাঃ বিমানবন্দরে প্রবাসীদের উপর মারমুখী আর্মড পুলিশ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এখনও বাজে আচরণের শিকার হচ্ছেন রেমিট্যান্স যো;;দ্ধারা। ভোগান্তি তো আছেই, সেই সঙ্গে

বাজে আচরণের শিকার হচ্ছেন অনেকে। রাতে ৮ ঘণ্টা ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বিমানবন্দরে বেড়েছে যাত্রী ও স্বজনদের চাপ। অভিযোগ উঠেছে, এ চাপ সামলাতে কথায় কথায় মারমুখী হয়ে ওঠে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। চাপ সামলাতে এখন বহির্গমন টার্মিনালের ড্রাইভওয়েতে নামিয়ে দেওয়া

হচ্ছে যাত্রীর সঙ্গে থাকা স্বজনদের। তবে স্বজনদের নামিয়ে দেওয়া নয়, মূলত অভিযোগ হলো— নামিয়ে দেওয়ার সময় যাত্রী কোনও প্রশ্ন বা অনুরোধ জানালেই শুনতে হচ্ছে তুই-তোকারি। এমনকি মামলার হু;ম;কিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দর ব্যবহারকারী শতাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে বাংলা ট্রিবিউন।

বিদেশফেরত, বিদেশগামী যাত্রী ও তাদের স্বজনদের প্রত্যেকেই আর্মড পুলিশ সদস্যদের আচরণে দারুণ ক্ষু;ব্ধ। ২৫ ডিসেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরে এসেছিলেন আরব আমিরাত প্রবাসী মো. জসিম উদ্দিন। বহিগর্মন টার্মিনালের ড্রাইভওয়েতে ঢোকার মুখেই আর্মড পুলিশের সদস্যরা জসিমের সঙ্গে আসা চাচা, স্ত্রী ও দুই সন্তান- এদের যেকোনও একজন ছাড়া বাকিদের

নেমে যেতে বলেন। কেন স্বজনরা সঙ্গে যেতে পারবে না জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পুলিশ সদস্যরা। জসিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি তাদের বললাম, উপরে আমি শুধু গাড়ি থেকে নামবো, বাকিরা নামবে না। পুলিশ সদস্য তখন আমাকে বললেন, বেশি কথা বললে তুই বিদেশই যেতে পারবি না। আব্দুল আলিম যাবেন সৌদি আরব।

২৭ ডিসেম্বর দুপুরে বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন। ভুলে তিনি ফোন ফেলে আসেন গাড়িতে। ছেলেকে ফোন দিয়ে জানালেন তিনি তিন নম্বর গেটের সামনে আছেন। বাবার ফোন পেয়ে বহির্গমন টার্মিনালের উত্তর পাশের ড্রাইভওয়ে দিয়ে উপরে উঠতে গেলে তাকে আটকে দেয় আর্মড পুলিশ সদস্যরা। বাবার ফোন দেওয়ার কথা বললে পুলিশ

সদস্যরা বলেন, তোর বাবাকে বল এসে নিয়ে যেতে। তুই যেতে পারবি না। আব্দুল আলিমের ছেলে আব্দুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি তাদের অনুরোধ করলাম ফোনটা দিয়েই চলে আসবো। তখন তারা বললেন, ‘বেশি কথা বলিস না, মোবাইল চুরির মামলায় গ্রেফতার করবো।’ যেখানে সহায়তা পাওয়ার কথা, সেখানে আমাকে দেখানো হলো মামলার ভ;য়।”

৫০ বছর বয়সী আবুল হোসেনও একই অভিজ্ঞতার শিকার। সঙ্গে এসেছিলেন তার ছেলেরা। খাড়া ড্রাইভওয়েতে একা লাগেজ বহনে কষ্ট হবে, তাই ছেলেকে নিয়ে এগোচ্ছিলেন। তাদের থামিয়ে দেয় আর্মড পুলিশ। আবুল হোসেন বলেন, ‘শরীরটা ভালো লাগছিল না। তাদের অনুরোধ করলাম, ছেলেকে একটু সঙ্গে যেতে দেন। উত্তরে আমাকে বলা হলো, বেত দিয়ে পে;টা;বে।’

এ ছাড়া বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে বিকট শব্দে হুটার, হুইসেল বাজায় আর্মড পুলিশ। এতে অস্বস্তিতে পড়েন বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা।
লন্ডনগামী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘হুট করে জোরে হুইসেল শুনে ভ;য় পেয়ে যাই। ভাবলাম বিরাট গণ্ডগোল লাগলো কি না। আমরা যারা স্বাভাবিকভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, তাদের কানের আছে

এভাবে হুইসেল বাজানো যে অসভ্যতা, এই বোধটুকুও কি তাদের নেই?’ ১২ ডিসেম্বর বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেছিলেন, বিমানবন্দরের যাত্রীসেবায় গাফিলতি বা যাত্রী হয়রানি হলে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২২ ডিসেম্বর বিমানবন্দর পরিদর্শন

করে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে দ্রুত সেবা প্রদান করার নির্দেশনাও প্রদান করেন। বিমান প্রতিমন্ত্রীর এসব নির্দেশনার প্রতিফলন ঘটছে না বিমানবন্দরে।বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও যাত্রীর সঙ্গে যদি স্বজন আসেন,

তাদের কারও সঙ্গেই এপিবিএন সদস্যরা খারাপ ব্যবহার করতে পারেন না। যদি অনেক স্বজন থাকেন সেক্ষেত্রে তাদের বুঝিয়ে দুয়েকজনকে এলাউ করা যেতে পারে। তবে কোনও যাত্রীর যদি সাহায্য বা কোনও প্রয়োজন হয় সেক্ষত্রে তাকে ফোর্স করা যাবে না।’ বিমানবন্দর (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (এসপি) মোহাম্মদ

রাশেদুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যাদের সহযাত্রী প্রয়োজন তাদের এলাউ করছি। একসঙ্গে ২০ হাজার লোক দাঁড়ানোর জায়গা তো বিমানবন্দরে নেই। আমাদের কাছে আগে হচ্ছে যাত্রীসেবা ও তার নিরাপত্তা, দর্শনার্থী নয়। এখন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ছে, যাত্রী করোনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ হলে আসেন, সহযাত্রীরা তো পরীক্ষা করিয়ে আসেন না।

ভিড় বেশি হলে যাত্রীর ঝুঁকি বাড়বে।’ অবসরে যাওয়া পুলিশের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, ‘যেকোনও বিশৃঙ্খলা কিংবা ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে যেয়ে কাউকেই যেন পুলিশ প্রতিপক্ষ না ভাবে। সহনশীলতার সঙ্গে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
ভিড়ের মধ্যে মানুষ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। তখন অনেকের বিবেকবোধ কাজ করে না।

কিন্তু পুলিশও যদি বিবেকবোধ হারিয়ে ফেলে তবে তা কেমন হয়ে যায়! পুলিশকে বেশি সহনশীল ও বুদ্ধিদীপ্তভাবে কাজ করতে হবে।’ হুইসেল, হুটার প্রসঙ্গে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘অনেকে কৌতুহল থেকে এমনভাবে ভিড় করে যে, যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে হুটার, হুইসেল না বাজিয়ে পারা যায় না। তবে

এমন যেন না হয়, আমার কাছে হুটার, হুইসেল আছে বলে বাজাতেই থাকবো। এটি অবশ্যই ঠিক নয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *