Categories
Uncategorized

টাকার ভাগ পাননি তারেক: বহিষ্কার তৈমুর

টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে গোলযোগের জন্য তৈমুর আলম খন্দকারকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র

জানিয়েছে। তৈমুর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, তারেক জিয়ার মৌখিক অনুমতি নিয়ে তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারেক জিয়াকে তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন এই নির্বাচনে নাটকীয় ফলাফল

হবে। তিনি এটিও জানিয়েছিলেন যে, আওয়ামী লীগের একটি অংশও তাকে সমর্থন করবেন। এর পরপরই তারেক জিয়া তাকে সবুজ সংকেত দেন। এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পর পুরো বিএনপিকে নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তৈমুর আলম খন্দকার। তাকে একজন ব্যবসায়ী অর্থায়ন করেছে, এমন গুঞ্জন বিএনপির

মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ব্যবসায়ী ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ বলে বিভিন্ন সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। তাকে ঠিক কত টাকা দেওয়া হয়েছে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলের বিভিন্ন রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে। অনেকেই বলছেন যে, তৈমুর আলম খন্দকার নির্বাচন বাবদ ঐ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা পেয়েছেন। এই খবরটি তারেকের কাছে পৌঁছে গেছে।

যখন তারেকের কাছে এই বার্তা পৌঁছায় তখন তারেক জিয়া তৈমুর আলম খন্দকারের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেন এবং এর সত্যতা জানতে চান। যদিও তৈমুর আলম খন্দকার এ ধরনের টাকা লেনদেনের ঘটনা অস্বীকার করেছেন। এরপর তৈমুর আলম খন্দকারকে বিএনপি চেয়ারপারসনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু

বিএনপি চেয়ারপারসনের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও পুরো বিএনপিকে সবুজ সংকেত দেয়া হয় যে, তারা যেন তৈমুর আলম খন্দকারের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে এবং তাকে জয়ী করতে সব ধরনের তৎপরতা চালায়। তৈমুর আলম খন্দকার শুধু ওই ব্যবসায়ী না বিভিন্ন মহল থেকেই নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিপুল অর্থ তুলেছেন বলে বিএনপির

কোনো কোনো নেতা অভিযোগ করছেন। বিএনপির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে মূলত অর্থ উপার্জনের জন্য তৈমুর আলম খন্দকার নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। এবং শেষ পর্যন্ত যখন নির্বাচনে তিনি প্রায় ৬৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তখন বিএনপির অনেকে মনে করেন যে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য

তার যে টাকা খরচ করার কথা ছিল সেই টাকা তিনি খরচ করেন নি বরং একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবেই তিনি নির্বাচনটিকে নিয়েছিলেন।
নির্বাচনের পর সেলিনা হায়াৎ আইভী তার বাসায় যান এবং তিনি আইভীকে দোয়া করেন এটিতেও বিএনপির হাইকমান্ড ক্ষুব্ধ হয়েছে। বিএনপি যখন বলছে যে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি, বিএনপি যখন বলছে

যে ইভিএম কারচুপির মেশিন, বিএনপির যখন বলছে বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় ঠিক সেইসময় তৈমুর আলম খন্দকার আওয়ামী লীগ সরকারকে একটি সার্টিফিকেট দিয়েছে বলে বিএনপির কোনো কোনো নেতা মন্তব্য করছেন। তিনি এই নির্বাচনকে বৈধতা দিয়েছেন এবং নির্বাচন মেনে নিয়েছেন।

বিএনপির একজন নেতা বলছিলেন যে শেষ পর্যন্ত তৈমুর আলম খন্দকার যদি এই নির্বাচনে না আসতেন তাহলে পরে এই নির্বাচন অর্থহীন এবং আকর্ষণহীন হতো। কিন্তু এই নির্বাচন উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ার কারণে সরকার এই নির্বাচনকে দেখিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব এরকম একটি বার্তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দিতে পারবে। আর এ কারণেই বিভিন্ন মহল মনে

করছেন যে, বিএনপির নেতারা তৈমুর আলম খন্দকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এই প্রশ্ন তোলার প্রেক্ষিতেই তারেক জিয়া তাকে বহিষ্কার এর নির্দেশ দেন। তবে একাধিক সূত্র বলছে যে, বহিষ্কারের মূল কারণ হলো টাকার ভাগ-বাটোয়ারা। তারেক জিয়া মনে করেছিলেন যে, নির্বাচনে দাঁড়ালে বিএনপির সাম্প্রতিক প্রথা অনুযায়ী তৈমুর আলম

খন্দকার তাকে নজরানা দিবেন। কিন্তু তৈমুর আলম খন্দকার তারেক জিয়াকে একটি পয়সাও দেননি। এর আগে যত নির্বাচনে যারাই অংশগ্রহণ করেছে তারাই তারেক জিয়াকে নজরানা দিয়েছেন। তারেক জিয়াকে নজরানা না দিয়ে এখন ভোটে দাঁড়ানো বিএনপিতে অবাস্তব চিন্তা। তৈমুর আলম খন্দকার সেই পথে হেঁটেছিলেন। এজন্যই তাকে শেষ পর্যন্ত বলি হতে হলো বলে বিভিন্ন মহল মনে করছেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *