Categories
Uncategorized

পুলিশ প্রহরার মধ্যেই বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের মাথায় উঠে অবমাননা

এবার কুষ্টিয়ায় সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরার মধ্যেই বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের মাথায় উঠে এক ব্যক্তি নানা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে ভাস্কর্যের ভাবগাম্ভীর্যকে অবমাননা করেছেন বলে অভিযোগ উঠে।

এরপর সেই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে ওই যুবক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপরে ওঠে। পরে স্থানীয়রা টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে নিচে নামান। বিষয়টি নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে।

আজ বিকেল ৫টার দিকে ওই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা বলেন, বিকেল ৩টার দিকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক যুবক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ

প্রত্যাবর্তনের প্রতিকৃতি, ৭ মার্চের ভাষণের প্রতিকৃতি এবং ছয় দফা দাবি আন্দোলনের বঙ্গবন্ধুর তিনটি ভাস্কর্য বেয়ে ওপরে ওঠে দাঁড়িয়ে ও বসে থাকে। স্থানীয়রা তাকে টাকা দেখালে তিনি নিচে নেমে আসেন এবং শহরের ভেতর চলে যান। পরে উপস্থিত অনেকেই ওই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে রাত ২টা ১৬ মিনিটে দুই মাদরাসাছাত্র হেঁটে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যস্থলে আসেন। এরপর ভাস্কর্যের গা ঘেঁষে থাকা মই বেয়ে ওপরে উঠে পিঠে থাকা ব্যাগ থেকে হাতুড়ি বের করে প্রথমে বঙ্গবন্ধুর হাতের উঁচু তর্জনীতে আঘাত করেন। হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে করে ভাস্কর্যের হাত ও পরে

মুখের অংশে ভাঙচুর করেন। এরপর থেকে সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশের একটি টিম দায়িত্ব পালন করে আসছে। এ ব্যাপারে এএসআই বিকাশ বলেন, আমি দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিলাম। এ সময় একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বেয়ে ওপরে ওঠে। পরে স্থানীয়রা টাকা দেয়ার কথা বললে সে নেমে আসে এবং পালিয়ে যায়। পুলিশের টিম সবসময়ই ডিউটি করে।

আমার নেতৃত্বে পুলিশের সদস্য প্রদীপ ও মহিদুল দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। তারা ঘটনার সময় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যস্থলে দায়িত্বে ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে

আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে গত ২০২০ সালে মাঝামাঝি শহরের প্রানকেন্দ্র পাঁচ রাস্তার মোড়ে আগে থেকে স্থাপিত শাপলা চত্বরকে অপসারণ করে সেখানে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নির্মাণ শুরু করা হয় কুষ্টিয়া পৌরসভার উদ্যোগে। নির্মাণকালে ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে কিছু দুর্বৃত্ত নির্মিত বঙ্গবন্ধুর মুখমণ্ডল ও হাতের অংশ ভেঙে ফেলে।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন করে। পরে ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে সৌপর্দ করে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *