Categories
Uncategorized

জায়েদ-নিপুণের যুদ্ধ কবে শেষ হবে?

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হন নায়ক জায়েদ খান। একই পদে লড়েন চিত্রনায়িকা নিপুণ।

হারের পর নিপুণ জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল বোর্ডের কাছে আপত্তি জানান। এরপর থেকে শুরু হয় জায়েদ খান-নিপুণের যুদ্ধ। শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচনের আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান এক সভা শেষে সিদ্ধান্তে জানান, বাংলাদেশ

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হওয়া জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে তিনি হারিয়েছেন পদ। একই সঙ্গে নায়িকা নিপুণকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে (৬ ফেব্রুয়ারি) শপথগ্রহণ করেছে নিপুনসহ নতুন কমিটি। শপথ অনুষ্ঠানে

মিশা-জায়েদ প্যানেলের বিজয়ী কেউ না এলেও উপস্থিত হয়েছেন মিশা সওদাগর। তিনি নতুন কমিটিকে শপথ পাঠ করিয়েছেন। এদিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে জয়ী জায়েদ খানের সাধারণ সম্পাদক পদ বাতিল করে আপিল বোর্ডের নেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্থগিত করা হয়েছে নিপুণের সাধারণ সম্পাদক পদও।

জায়েদের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে এক সপ্তাহের nরুল জারি করেছেন আদালত। এর আগে সকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থিতা বাতিল সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট

বেঞ্চে আবেদন করেন জায়েদ খান। তার আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জায়েদ খান ও নিপুণের এই যুদ্ধে কে হবেন বিজয়ী? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিডি২৪লাইভ ডটকমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আরেফিন সোহাগ যোগাযোগ করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি, পরিচালক সমিতি ও শিল্পী সমিতির সাথে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক

সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বিডি২৪লাইভ ডটকমকে বলেন, ‘প্রথম থেকে এই যুদ্ধটা ছিল এফডিসি কেন্দ্রিক, এক নায়েক তন্ত্রের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের জায়গাতে আসার একটি যুদ্ধ ছিল। এখন এই ঘটনাটি এমন ভাবে ছড়িয়েছে যা, এফডিসি থেকে বাংলাদেশ এরপর বিশ্বে বিতর্কিত হয়েছে। সবার আশা ছিল, ইলিয়াস কাঞ্চন ও নিপুণ প্যানেল বিজয়ী হবে।

এই এক নায়েক তন্ত্রের বিদায় ঘটবে এমনটাই ভেবেছিল সকলে। জায়েদ খান এতটাই ক্ষমতাশীল, যার সব খানে প্রভাব রয়েছে। ফাইনালি নিপুণের অভিযোগের ভিত্তিতে আপিল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি মাত্র লোক, জায়েদ খানের জন্য ৪ বছর ধরে এই এফডিসিতে অশান্ত বিরাজ করছে। তার অপছন্দের শিল্পীদের এফডিসিতে ঢুকতে দেয়া হয়না।’

খোরশেদ আলম খসরু আরো বলেন, ‘আপনারা জানেন, পপির মত একজন শিল্পীকে সদস্য পত বাতিলের চিঠি দিয়েছে। ইচ্ছে করলেই একজন পপি তৈরি করা যায় না। এই একটি মাত্র লোক যে পুরো শিল্পী সমিতিটাকে শেষ করে দিয়েছে। একক ভাবে প্রভাব বিস্তার করে আসছে এই লোকটি। জায়েদ যদি তার পদে বহাল থাকে তাহলে এফডিসিতে আবার অশান্তি শুরু হবে। তার সাথে কাজ করতে ইচ্ছুক না

কেউই। আমি মনে করি তার মত লোকের এখানে বসার যোগ্যতা নাই।’ সদ্য নির্বাচিত সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন মুঠোফোনে বিডি২৪লাইভ ডটকমকে বলেন, ‘বর্তমান কমিটি নিয়ে কথা বলার মত কিছু নাই। আর কিছু বলতেও চাই না। আমি মিটিংয়ে আছি পরে কথা হবে।’
মিশা সওদাগর বিডি২৪লাইভ ডটকমকে বলেন, ‘আমি শান্তি প্রিয় মানুষ, অন্যের জন্য সেক্রিফাইস করতে জানি। আর জায়েদ-নিপুণের বিষয়টি বর্তমানে আইনি মাধ্যমে চলে গেছে। আমি এই বিষয়ে কোন কথা বলবো না। আইন সবার উর্ধ্বে আইন যে সিদ্ধান্ত জানাবেন সেটাই আমাদের মেনে নিতে হবে। এর বেশি এই মুহূর্তে আমি কিছুই বলতে চাই না।’ জায়েদ-নিপুণের এমন কাঁদা ছুঁড়াছুঁড়ির খেলাতে বিরক্ত চলচ্চিত্র অঙ্গণ। এ বিষয়ে পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু গণমাধ্যমকে বলেন, চিত্রনায়ক জায়েদ খান এমন কিছু হয়ে যাননি যে তাকে নিয়ে এতো আলোচনা-সমালোচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর জায়েদ খানের একটা শাস্তি হয়েছে বলে আমি মনে করি। সে কোনো অন্যায় করে থাকলে এই শাস্তি ন্যায়। আর সে যদি অন্যায় না করে তাহলে শাস্তিটা অন্যায়। কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায় সেটা বলতে আমি পারব না। আর এত আলোচনা করার মতো কেউ এখনও সে হয়ে ওঠেনি। জায়েদ খানের কারণেই কি আপনারা নির্বাচনের দিন এফডিসিতে প্রবেশ করতে পারেননি? এমন প্রশ্নের উত্তরে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন, জায়েদ খান আমাদের ঢুকতে দেয়নি এটা ভুল। আমাদের প্রবেশে বাধা দিয়েছেন এফডিসির এমডি। আমি চলচ্চিত্রে এসেছি ১৯৬৪ সালে। আমার ৫৬ বছর বয়সে কখনো এমন নজির দেখিনি।

জায়েদ খান বলেন, তার অন্তত আমার সাথে যে অন্যায় হয়েছে সেটা নিয়ে বলা উচিত ছিল।’ জায়েদ খান বলেছেন, ‘আমি এখনো সাধারণ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। এফডিসিতে বহিরাগত ছেলেদের নিয়ে এসে গায়ের জোরে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেছেন নিপুণ, এ কারণে আমি আইনি প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছি। ১৭৬ জন ভোটার আমাকে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। এর সম্মান আমাকে রাখতেই হবে। এফডিসিতে বহিরাগত ছেলেদের নিয়ে এসে নিপুণ গায়ের জোরে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘গত দুই দিন এফডিসিতে শত শত বাইরের মানুষ আনা হয়েছে। পেশিশক্তি দেখিয়ে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করলেই কি সেটাই কার্যকর হয়ে যাবে? এফডিসিতে সৃজনশীল কাজ হয়।

সিনেমা, শিল্পের কাজ হয়, এখানে এত বহিরাগত ছেলে, ওরা কারা?’ ঘোষণার আগের রাতেই রাজধানীর বনানীর একটি রেস্তোরাঁয় নীলনকশা করা হয়েছে দাবি করে জায়েদ খান বলেন, অবৈধভাবে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে যেন শপথ না করানো হয় এ জন্য আমি সোহানুর রহমান সোহান ও মোহাম্মদ হোসেনকে আজকেও (রবিবার) আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। তাঁরা কেউ আইন মানছেনই না। এখন আমার একটাই পথ, আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই চালিয়ে যাওয়া।’ এদিকে নিপুণের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন চিত্রনায়িকা নিপুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *