Categories
Uncategorized

ফখরুলের বিকল্প খুঁজছে বিএনপি

বিএনপি এখন নতুন করে সংগঠন গোছাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় তাদের অনিষ্পন্ন কমিটি, বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলোকে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। যেখানে কমিটি

নেই সেখানে নতুন করে কমিটি গঠনের কাজও চলছে। বিএনপির প্রথম লক্ষ্য হলো সংগঠনকে পুনর্গঠিত করা। কিন্তু বিএনপির নেতারা বলছেন যে, সংগঠন পুনর্গঠিত করার আগে নেতৃত্ব পুনর্গঠন করা দরকার। বিএনপির তৃণমূলের নেতারা দাবি করছেন যে, সংগঠন শক্তিশালী হবে

তখনই যখন নেতৃত্বে শক্তিশালী হবে। তাদের বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটি নিয়ে ঘোরতর কিছু আপত্তি রয়েছে। তারা মনে করে যে, বিএনপি যদি সত্যি সত্যি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চায় এবং এক দফা দাবি নিয়ে এগুতে চায় তাহলে তাদের একজন সার্বক্ষণিক

যোগ্য এবং বিএনপির তৃণমূল পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য মহাসচিব নিযুক্ত করতে হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মহাসচিবের দায়িত্ব ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরেই ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলে আর কোন ভাল বিকল্প নেই, এই বিবেচনা থেকে তাকে মহাসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।

বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে তৃণমূলের বিপুল অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। যেমন: তিনি সাংগঠনিক কাজে মনোযোগ দেন না, শুধুমাত্র বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যদিয়ে দায় সারেন। দলের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন না এবং সারাদেশে সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য যে ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার সে ধরনের উদ্যোগ তিনি গ্রহণ করেন না। ঢাকার বাইরে

একমাত্র তার নির্বাচনী এলাকা ছাড়া কোথাও তাকে তেমন যেতে দেখা যায়নি। এ সমস্ত অভিযোগগুলো লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার কাছে বিভিন্ন সময়ে করা হচ্ছে। আর এখন যখন বিএনপি বলছে যে তাদের আন্দোলন ছাড়া আর কোন উপায় নেই, এই বাস্তবতায় বিএনপিকে এখন একজন নতুন মহাসচিব খুঁজতেই হচ্ছে। তবে বিএনপির সিনিয়র

নেতা যাদের গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত বেশি, নানা কারণে তারা মহাসচিব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন না। বিএনপিতে মহাসচিব পদে সবচেয়ে আলোচিত নাম ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তবে তিনি এখন মহাসচিব হতে আগ্রহী নন, এমনটি শোনা যাচ্ছে। প্রথমত, তাঁর অনেক বয়স হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, তিনি রাজনৈতিকভাবে বেগম খালেদা

জিয়ার পরপরই বিএনপিতে সিনিয়র। তিনি তারেকের অধীনে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন না বলেই তাঁর ঘনিষ্ঠদেরকে জানিয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে মির্জা আব্বাসও অনেকের পছন্দ। কিন্তু মির্জা আব্বাসও নিজেই এখন এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে তেমন একটা আগ্রহী নন। এরকম দায়িত্ব গ্রহণে আগ্রহী নন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও।

নজরুল ইসলাম খান ত্যাগী পরীক্ষিত নেতা কিন্তু এখন তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। এই অবস্থায় তিনি মহাসচিব হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই। এই মুহূর্তে মহাসচিব হিসেবে সবচেয়ে পছন্দের ব্যক্তি হিসেবে আছে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম। তিনি বিএনপির কর্মীদের কাছে অনেকটাই গ্রহণযোগ্য। তবে তারেক জিয়ার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি এ ধরনের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চান কিনা,

এ নিয়েও কারও কোন সন্দেহ রয়েছে। তবে বিএনপি সকলেই একমত, দলকে যদি আন্দোলন করতে হয় এবং আগামী নির্বাচনের আগে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করতে হয় তাহলে দলের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দক্ষ সংগঠকের কোন বিকল্প নাই। সেটা যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নন, সেটি এখন প্রমাণিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *