Categories
Uncategorized

কুলির ছেলে থেকে ৩৪০ কোটি টাকার প্রতিষ্ঠানের মালিক!

স্কুল থেকে ফেরার পথে বাবার সঙ্গে কুলির কাজ করত ছোট্ট মুস্তাফা। স্কুলব্যাগ নামিয়ে পিঠে তুলে নিতেন ভারী কাঠের বাক্স। কিন্তু সন্ধ্যাবেলায়

পড়তে বসলেই ঘুম। ক্লাস সিক্সে ফেল করেছিলেন আজকের ‘ব্রেকফাস্ট কিং’। এখন মুস্তাফার সংস্থা বছরে প্রায় ৩০০ কোটি রুপি আয় করে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৪০ কোটি টাকা। একটি খাবারের সংস্থার মালিক মুস্তাফা। তার সংস্থা ভারতীয়দের প্রাতঃরাশ এবং জলখাবার— ইডলি-

দোসার উপকরণ প্রস্তুত করে। শুরুর দিকে এলাকায় দিনে ৫০ প্যাকেট উপকরণ বিক্রি করতেন তারা। এখন প্রতিদিন গোটা ভারতে কয়েক হাজার প্যাকেট সরবরাহ করে মুস্তাফার সংস্থা। তবে কুলির ছেলে মুস্তাফার এই সাফল্য সহজে আসেনি। কঠোর পরিশ্রম তো ছিলই। তার সঙ্গে সঠিক সুযোগ আর তাৎপর্যপূর্ণ কিছু করার ইচ্ছাও তাকে এগিয়ে যেতে

আর এই জায়গায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন তিনি আজ দেশটির বহু মানুষ তার সংস্থার তৈরি প্রাতঃরাশ দিয়ে দিন শুরু করেন। তবে একটা সময় ছিল যখন প্রাতঃরাশ তো দূর, দিনের এক বেলাও খাবার জুটত না মুস্তাফার। এমনও হয়েছে অভুক্ত অবস্থাতেই রাতে ঘুমিয়েছেন পরিবারের প্রত্যেকে। বাবা কফির বাগানে কুলির কাজ করতেন। মা ছিলেন নিরক্ষর।

পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য বাবাকে সাহায্য করতে হতো মুস্তাফাকেই। কফির বাগানে বাবার সঙ্গে কুলির কাজ করতেন তিনি। যদি তাতে কিছু টাকা হাতে আসে এই উদ্দেশ্যে। মুস্তাফা জানিয়েছেন, কোনও বাবা-মা চাইবেন না তাদের সন্তান পড়াশোনা ছেড়ে কুলির কাজ করুক। কিন্তু তার পরিবারের অন্য কোনও

বিকল্প ছিল না। টিকে থাকার জন্য এছাড়া আর অন্য কোনও উপায় ছিল না তাদের সামনে ক্লাস সিক্সে ফেল করার পর মুস্তাফার মনে হয়, এভাবে পড়াশোনার ক্ষতি করা যাবে না। প্রয়োজনে আরও পরিশ্রম করতে হবে। কঠোর পরিশ্রমেই সাফল্য আসে। পাঁচ বছর পর ক্লাস টেনের বোর্ডের পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন মুস্তাফা। পড়াশোনার পাশাপাশি তখনও চলছে বেঁচে থাকার লড়াই। তবে ক্লাস টেনের সাফল্য

অনেকটাই আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল মুস্তাফাকে। আরও ভাল পড়াশোনার চেষ্টা চলতে থাকে তার। এভাবেই দ্বাদশের গণ্ডি পেরিয়ে এনআইটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পান। চাকরি পান বহুজাতিক সংস্থাতেও। উত্তরণের এই পথ এখান থেকে সমান্তরাল হতেই পারত। বহুজাতিক সংস্থার চাকরি, বড় বেতন নিয়ে স্থায়ী, স্বচ্ছন্দ আর নিশ্চিন্ত জীবন কাটাতে পারতেন মুস্তাফা।

সত্যি বলতে কী ইউরোপ এবং মধ্য প্রাচ্যের একাধিক সংস্থায় কাজ করে কিছুটা স্বচ্ছন্দ হতে শুরুও করেছিলেন তিনি। কিন্তু কিছুতেই সন্তুষ্ট পারছিলেন না মুস্তাফা। দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাইছিলেন তিনি। সেই লক্ষ্য থেকেই দেশে ফিরে আসেন। ২০০৫ সালে সাড়ে পাঁচশ’ বর্গফুট একটি অফিসে শুরু হয় তার ব্যবসার কাজ। শুরুতে পাঁচ হাজার কেজি চাল থেকে ১৫ হাজার কেজি ইডলির উপকরণ তৈরি করেছিল মুস্তাফার সংস্থা। এখন তারা দেশের সমস্ত বড় শহরে নিয়মিত

এর চার গুণ বেশি উপকরণ সরবরাহ করেন। ১০ বছরের মধ্যে বছরে ১০০ কোটির আয় করতে শুরু করে মুস্তাফার ‘আইডি ফ্রেশ ফুড’। যা পরের বছরই বেড়ে দাঁড়ায় ১৮২ কোটিতে। এখনও পর্যন্ত বার্ষিক আয় কখনও নিম্নমুখী হয়নি সংস্থাটির। শেষ আর্থিক বছরে ২৯৪ কোটি টাকা আয় করেছে মুস্তাফার সংস্থা, যা আগের বছরের ২৩৮ কোটির থেকে ২৩.৫ শতাংশ বেশি। তার উত্তরণের এই কাহিনী জানতে এখন আগ্রহী অনেকেই। জাতিসংঘে বক্তব্য রাখতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মুস্তাফাকে।

বছর খানেক আগে জাতীয় স্তরের একটি সংবাদ সংস্থা দেশের প্রথম ১০ ‘সেল্ফ মেড ম্যান’-এর একটি তালিকা তৈরি করেছিল। ‘সেল্ফ মেড’ অর্থাৎ সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় সমাজের কাছে নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তৈরি করা একজন মানুষ। সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন মুস্তাফা। তবে মুস্তাফা সবাইকে নিয়ে উন্নতির পথে যাওয়ায় বিশ্বাসী। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলেন। কর্মসংস্থান করতে চেয়েছিলেন। মুস্তাফার সংস্থায় এখন কাজ করেন গ্রামীণ ভারতের হাজারেরও বেশি তরুণ। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Categories
Uncategorized

ছেলের প্রাণ বাঁচাতে কিডনি দিলেন মমতাময়ী মা

‘মা’ একটি ছোট্ট শব্দ। এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সব মায়া, মমতা, অকৃত্রিম স্নেহ, আদর, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সব সুখের

কথা। চাওয়া-পাওয়ার এই পৃথিবীতে বাবা-মায়ের ভালোবাসার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। নতুন খবর হচ্ছে, ফেনীর দাগনভূইয়া ছেলের প্রাণ বাঁচাতে কিডনি দান করলেন ছালেহা বেগম নামের এক মা। উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের দরাপপুর গ্রামের মমতাজ মিয়ার

বাড়ির মৃ;ত মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে গোলাম আজম (৩১) চট্টগ্রামে আবুল খায়ের কোম্পানিতে প্রশাসন বিভাগে চাকরি করেন। গত বছর ডিসেম্বর মাসে অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, গোলাম আজমের দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। তার চিকিৎসা করতে গিয়ে সহায়-সম্পদ বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে

পড়ে পরিবারটি।ভুক্তভোগীর মামা সেনবাগ উপজেলার কাজিরখিল গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, তার ভাগ্নে গোলাম আজমের জন্য কিডনি কিনতে হলে প্রচুর টাকার প্রয়োজন। দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে কিডনি কেনা সম্ভব নয় বলে আজমের মা ছেলেকে নিজের কিডনি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি

বিভাগে যোগাযোগ করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, অসুস্থ গোলাম আজম অত্যন্ত মেধাবী। তার দুটি কিডনি অকেজো। কেউ কিডনি দিতে রাজি হয়নি। পরিবারের পক্ষে কিডনি কেনা সম্ভব না হওয়ায় মা ছালেহা বেগম কিডনি দান করছেন। আজমের বাবা ট্রাক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত বছর তিনি মারা যান। তিন কন্যা ও এক ছেলে নিয়ে সুখের সংসার

ছিল ছালেহার। একমাত্র ছেলের অসুস্থতায় পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকার। উপার্জনক্ষম ছেলের অসুস্থতার কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন ছালেহা বেগম। তিনি জানান, তার তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়েটি চট্টগ্রামে মাস্টার্স শেষ পর্বের শিক্ষার্থী। তাকেও বিয়ে দিতে হবে। একদিকে ছেলের চিকিৎসা,

অন্যদিকে মেয়ের বিয়ে নিয়ে দিশেহারা তিনি। ছেলের বাকি চিকিৎসা কীভাবে করবেন এমন দুশ্চিন্তায় তার প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে। সমাজের বিত্তশালী লোকজন যদি সহযোগিতার হাত বাড়ান তাহলে ছেলের ভবিষ্যৎ চিকিৎসা করা সম্ভব হবে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির দাগনভূঞার সভাপতি এডভোকেট

মিজানুর রহমান সেলিম জানান, ছেলের প্রাণ বাঁচাতে একজন মায়ের কিডনি দানের ঘটনা এ উপজেলায় প্রথম।

Categories
Uncategorized

২৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সেই ইউএনও

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি নির্মাণের উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা

নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রশংসা করা হচ্ছে। দায়িত্ববোধ ও স্বচ্ছতার জন্য তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সবাই। জানা গেছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী

উপলক্ষে বদরগঞ্জ উপজেলায় ২৯৬ জন ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতক জমিসহ বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে প্রত্যেক বাড়ি নির্মাণের জন্য ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৮৬টি বাড়ির বরাদ্দ পান ইউএনও মেহেদী হাসান। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে আরও ১০টি বাড়ি নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ পান।এ ছাড়া জায়গা আছে

ঘর নেই- এমন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের জন্য ৩০টি বাড়ি এবং ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত ৮টি পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণে বরাদ্দ পান। সব মিলে বাড়ি নির্মাণে বদরগঞ্জে ৫ কোটি ৭৩ লাখ ১৪ হাজার টাকার বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু বাড়িগুলো নির্মাণের পর উদ্বৃত্ত থেকে যায় ২৫ লাখ টাকা। জুন মাসে হিসাব ক্লোজিংয়ের সময় সেই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেন ইউএনও

মেহেদী হাসান। ইউএনও মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, বাড়ি নির্মাণে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছিল। কাজ শুরু করার আগে কমিটির সদস্যদের নিয়ে বসেছিলাম। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, বাড়ি নির্মাণ করে টাকা বেঁচে যায়, তাহলে সেই টাকা সরকারকে ফেরত দেব।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি নির্মাণের উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন

Categories
Uncategorized

পোশাক কারখানায় ছুটি ১৮ জুলাই, আগেই হবে বেতন-বোনাস

আগামী ২১ জুলাই দেশব্যাপী পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। ঈদকে সামনে রেখে সব অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে। সরকারি ছুটি থাকবে

(২০-২২ জুলাই) তিন দিন। অন্যদিকে দেশের রফতানি আয়ের ৮৪ শতাংশ যোগান দেয়া পোশাক খাতের শ্রমিকরা ছুটি পাচ্ছেন ১৮ জুলাই থেকেই। ঈদের সরকারি ছুটি শুরুর আগে তাদের ধারাবাহিক ছুটি চলবে ২০ জুলাই পর্যন্ত। মূলত শ্রমিকরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ বাড়িতে

ঈদ করতে পারেন এজন্যই তাদের ধারাবাহিক ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তৈরি পোশাক মালিক-রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র একাধিক সদস্যভুক্ত কারখানা মালিকরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধ করার আহ্বান জানিয়েছে

শ্রমিক সংগঠনগুলো। আর মালিকপক্ষ বলছে, তৈরি পোশাক কারখানায় ইতোমধ্যে বেতন দেয়া শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে বেতন ও ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে বোনাস পরিশোধ করবেন মালিকরা। সরকারি সিদ্ধান্ত না হলেও মালিকরা নিজেদের উদ্যোগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করছেন পোশাক কারখানায় ছুটি বিষয়ে বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি ফজলে

শামীম এহসান বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের শ্রমিকরা নিরাপদে থাকুক। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবারের সাথে ঈদ করবে, এটাই আমাদের চাওয়া। শ্রমিকরা যাতে দল বেধে নিজ নিজ বাড়িতে না যান এ জন্য পর্যায়ক্রমে ১৮ জুলাই থেকে কারখানায় ছুটি দেবো।’ বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, প্রত্যেক ঈদ উৎসবেই দেখা যায়

বেতন-বোনাস নিয়ে মালিকরা সমস্যা সৃষ্টি করেন। ঈদের দিনেও শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের জন্য কারখানায় অবস্থান করতে হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত বলেন, ‘আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেই সব কারখানায় সম্পূর্ণ বেতন-বোনাস পরিশোধ করার আহ্বান থাকবে আমাদের। অনেক কারখানা ১৮/১৯ তারিখে বেতন-বোনাস

পরিশোধের কথা বলছে। এর ফলে দেখা যাবে ব্যাংকের ঝামেলার কথা বলে শ্রমিকদের বেতন বোনাস অনিশ্চিত করে তুলবে মালিকরা।’ এ নিয়ে পোশাক শিল্প উদ্যোক্তা ও ফতুল্লা অ্যাপারেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘পোশাক কারখানাগুলোতে গত সপ্তাহে বেতন দেয়া শুরু হয়েছে। অধিকাংশ কারখানা মালিক বেতন দেয়া শেষ করেছেন এখন তারা বোনাস দেয়ার চিন্তা করছেন।

আশা করছি, কারখানা ছুটির আগেই সব শ্রমিক বেতন-বোনাস নিয়েই নিজ পরিবারের সাথে ঈদ করতে পারবেন।’

Categories
Uncategorized

টাকার অভাবে ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মে’য়েকে নিয়ে বসে বাবা

মেজো মে’য়ে সোনিয়া ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গত বুধবার ছিল ডেলিভা’রি ডেট। ডাক্তার জানিয়েছেন, নরমাল ডেলিভা’রি সম্ভব না। সিজার

আবশ্যক। আগের বারের ১৩০০ টাকা পাবে ডাক্তার। এবার লাগবে ১২ হাজার টাকা। বাড়িতে নেই এক টাকাও। তাই মা’থায় হাত দিয়ে অসহায় এই পরিবারটির। চিন্তার ছাপ চোখে মুখে। যশোরের শার্শা উপজে’লার রুদ্রপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের সংসার সব সময় চলে টান পোড়েনের

মধ্য দিয়ে। বয়স ষাট পেরিয়ে। শারিরীক দুর্বলতার কারণে কাজ করতে পারেন না। একদিন কাজ করলে এক সপ্তাহ বসে কা’টান। সংসারে অভাব কাটে না। বাঁশ বাগানের তলায় দুই শতক জমির ওপর ছোট একটা ঘর ফজলুর রহমানের। টালির ছাউনি বেড়া দিয়ে ঘেরা। পাশে ছোট্র রান্না ঘর। এই মাত্র সম্বল। স্ত্রী’ রাবেয়া ও চার মে’য়ে নিয়ে ফজলুর সংসার।

বড় মে’য়ে হালিমা আগের পক্ষের। থাকেন শ্বশুরবাড়ি। এ পক্ষের সোনিয়া, আছিয়া, রাজিয়া তিন মে’য়ে। কোনো ছে’লে নেই তাদের। বড় মে’য়ে সোনিয়ার বিয়ে হয়েছে। এখন ১০ মাসের অন্তসত্ত্বা। মেজো মে’য়ে আছিয়ার বিয়ে দিয়েছে যশোরের মনিরামপুর থা’নার লাউড়ী গ্রামে। আছিয়ার মে’য়ের বয়স এক বছর দুই মাস। তার মে’য়ে জন্ম থেকে প্রতিব’ন্ধী।

বাপের বাড়ি এসেছে বাচ্চাটির চিকিৎসা করাতে। শবেবরাতের পরে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়ি এসেছে আছিয়া। এখনো শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার নাম নেই। ছোট মে’য়ে রাজিয়া ক্লাস সিক্সে পড়ে। এই তিন মে’য়ে নিয়ে লকডাউনের বাজারে হিমশিম খাচ্ছেন অক্ষম ফজলুর রহমান। কাজকর্ম করতে পারেন না ফজলুর। রাবিয়া খাতুন এখন

সংসারের হর্তাক’র্তা। এ বাড়ি ওবাড়ি কাজ করে আর চেয়ে চিন্তে দিন পার করে কোন রকমে। সরকারি অনুদান বলতে এবছর ১০ টাকা দরে চালের একখান কার্ড পেয়েছে তারা। অসহায় এই পরিবারটি এখন সংসার চালানোর চিন্তাবাদ রেখে মে’য়ে সোনিয়ার ডেলিভা’রি করানোর চিন্তায় বিভোর। কিন্তু এতো টাকা পাবে

কোথায়। কেউ যদি সহযোগিতার হাত বাড়াতে চান তবে তাদের সঙ্গে এই (০১৯০৮-২২১৫৩০) যোগাযোগ করতে পারেন।

Categories
Uncategorized

রিকশা চালকের দুই ছেলে বিসিএস এক ছেলের এমবিবিএস।

রিকশা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করে তিন ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আব্দুল খালেক শেখ (৮১)। গ্রামের

বাড়ি বাগেরহাটের কাঁঠাল গ্রামে হলেও স্বাধীনতার পর থেকে তিনি খুলনায় বসবাস করেন। খুলনা শিপইয়ার্ডে বেশ কয়েক বছর চাকরি করেছেন। এখনও থাকেন সেই এলাকায়। ৪০ বছর বয়সে করেছেন বিয়ে। তিন ছেলের বাবা। স্ত্রী ফাতেমা এক সময় খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া দাদা ম্যাচ

ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। রিকশাচালক এ চাচার নাম আব্দুল খালেক শেখ (৮১)। গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের কাঁঠাল গ্রামে হলেও স্বাধীনতার পর থেকে তিনি খুলনায় বসবাস করেন। খুলনা শিপইয়ার্ডে বেশ কয়েক বছর চাকরি করেছেন। এখনও থাকেন সেই এলাকায়। ৪০ বছর বয়সে করেছেন বিয়ে। তিন ছেলের বাবা। স্ত্রী ফাতেমা এক সময় খুলনার বন্ধ

হয়ে যাওয়া দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। রিক্সাচালকের সঙ্গে কথা হয় খুলনায়। রোববার সন্ধ্যায়। ছেলেরা কে কি করেন জানতে চাইলে তিনি জানান, বড় ছেলে টুটুল শেখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ৩৪তম বিসিএস দিয়ে গাইবান্ধা জেলায় কিছুদিন আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। মেজ ছেলে ইব্রাহিম শেখ খুলনার সরকারি বিএল

কলেজ থেকে একই বিষয়ে পড়াশোনা করে ৩৬তম বিসিএস পাস করে ঢাকায় আছেন। আর ছোট ছেলে সোহরাব শেখ খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্ন করছেন। গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে প্র্যাকটিসও করছেন। চাচার কাছে তার ছেলেদের এমন কৃতিত্বের কথা শুনে বার বার শ্রদ্ধা জানাতে ইচ্ছা

করছে। কারণ আমাদের সমাজের অনেকেই তাদের বয়সী রিকশাচালকদের বলে থাকেন- এই খালি যাবে/যাবি? বা এই রিকশা যাবে/যাবি?
বাসায় আসার পথে জীবনযুদ্ধে জয়ী দরিদ্র আব্দুল খালেক আরও অনেক কথাই বলেন। তিনি বলেন, নিজে শিক্ষিত হতে না পারলেও ছেলেদের পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করিনি। সংসার চালাতে কষ্ট হলেও ছেলেদের শিক্ষিত

করতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছি। তবে আমার একার চেষ্টা নয় ছেলেদের প্রবল আগ্রহ আর মেধার কারণে তারা শিক্ষিত হতে পেরেছে। ছেলেদের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার একার আয়ে অনেক সময় পারতাম না। তাই ওরা প্রাইভেট পড়িয়ে নিজেদের পড়ার খরচ যুগিয়েছে। সন্তানদের পড়াশোনায় স্ত্রী আমাকে সহযোগিতা করেছে। গর্বিত পিতা আব্দুল খালেককে

তার জীবনের স্বার্থকতা কি জানতে চাইলে বলেন, আমি মরে গেলে সবাই বলবে ওদের তো মানুষের মতো মানুষ করেছি। আশা করছি ছেলেদের যেখানে পৌঁছে দিতে পেরেছি তাতে তাদের কাজের কারণে কেউ আমাকে গালি দিতে পারবে না। ছেলেরা রিকশা চালাতে নিষেধ করে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছেলেরা রিকশা চালানো ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছে। ওরা পুরোদমে বেতন পেলে ছেড়ে দিবো। বাসার সামনে পৌঁছে

রিকশাওয়ালা চাচা তার বাসায় যেতে বার বার অনুরোধ জানান।ভাড়া দেওয়ার পর একটি ভিজিটিং কার্ড চেয়ে নিয়ে মোবাইলে কথা বলবেন বলে অন্য ভাড়া নিয়ে চলে যান দুই বিসিএস সম্পন্ন ও এক এমবিবিএস চিকিৎসকের গর্বিত এ বাবা।

Categories
Uncategorized

লকডাউনে বাড়ি-দোকান ভাড়া মওকুফে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

লকডাউন (বিধিনিষেধ) বিবেচনায় এক মাসের বাড়ি ও দোকান ভাড়া মওকুফে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভাড়াটিয়া পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি মো. বাহারানে সুলতান বাহার বলেন, ‘লকডাউনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। কর্ম হারিয়ে তারা

আজ দিশেহারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ভাড়াটিয়াদের কষ্ট-দুর্দশা আরও বাড়িয়েছে। এ অবস্থায়ও অনেক বাড়িওয়ালা ভাড়া বাড়িয়েছেন। অনেকে আবার ভাড়াটিয়াকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছেন। কর্মহীন থাকায় বাড়ি ও দোকান ভাড়া পরিশোধ তাদের সামনে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। অসহায় দরিদ্র এ সব

ভাড়াটিয়ার এক মাসের ভাড়া মওকুফে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ভাড়া থাকেন। চলমান লকডাউন ও ঈদের কারণে তাদের সিংহভাগ মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। এখনো অনেকে ছাড়ছেন। ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরতে পারবেন কিনা তা অনিশ্চিত। ঢাকায় ফিরলেও কর্মে ফিরতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়।

সরকার মহামারির প্রকোপ কমাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহলের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিন্তু অসহায় ভাড়াটিয়াদের দুর্ভোগ লাঘবে এ পর্যন্ত কোনো ধরনের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়নি। আমরা ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের উভয়ের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার

জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।’ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে সরকার গত ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করে। এরপর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চলমান বিধিনিষেধ শিথিল করে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

একই সঙ্গে ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ফের কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়।

Categories
Uncategorized

আমার ভয় হচ্ছে, বললেন শামীম ওসমান

লকডাউন শিথিল হওয়ায় ‘ভয় হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। তিনি বলেন,

কোরবানির হাট বসেছে। মানুষের মুখে মাস্ক নেই। কেউ নিয়মকানুন মানছেন না। আমার ভয় হচ্ছে। আপনার অসুখ হলে আপনার বাচ্চাকে কে দেখবে। নিজেকে রক্ষা করুন এবং আপনার আশেপাশের লোকজনকে সচেতন করুন। বুধবার (১৪ জুলাই) সদর উপজেলায় ত্রাণ বিতরণের সময় এ কথা বলেন তিনি। শামীম ওসমান বলেন, সারা বাংলাদেশের

লাখ লাখ মানুষ অভাবে আছেন। বিশেষত নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো, শুধু আপনারা নন। সকলেই সমস্যায় পড়েছেন। আল্লাহ এই আজাব দিয়েছেন। আমরা সবাই যদি আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করি, মাফ চাই আল্লাহ মাফ করবেন। যারা খেটে খওয়া মানুষ আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করেন। আমি আপনাদের কাছে দোয়া ভিক্ষা চাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য।

আমরা ছোট একটা দেশ, সতেরো কোটি মানুষ। দেড় বছর হয়ে গেছে। তিনি এখনও চেষ্টা করছেন মানুষ যেন ভালো থাকেন। মহামারি করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এমপি শামীম ওসমান বলেন, ‘আল্লাহ দুনিয়ায় আজাব দিয়েছেন। এখান আমাদের কিছু করার নেই। একটাই পথ, আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া।

আমরা হয়তো ঠিকমতো মাফ চাইছি না, নিয়ম-কানুনও মানতে পারছি না।’ এসময় সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা শিউলী, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী, এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদের

চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Categories
Uncategorized

রওশন এরশাদকে চেয়ারম্যান করে এরিক এরশাদের নতুন জাতীয় পার্টি ঘোষণা

বুধবার রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তাদের নাম প্রস্তাব করেন এরশাদের সন্তান এরিক। রওশন

এরশাদকে চেয়ারম্যান, মা বিদিশা ও ভাই রাহগির আল মাহি সাদকে কো-চেয়ারম্যান ও কাজী মামুনুর রশীদকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করে নতুন জাতীয় পার্টির ঘোষণা দিয়েছেন এরিক এরশাদ। এরিক বলেন, আমার বাবা যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন রাতের আঁধারে আমার চাচা জিএম

কাদের বাবাকে জিম্মি করে অবৈধভাবে পার্টির চেয়ারম্যান পদে স্বাক্ষর করিয়েছিলেন। এগুলো আটকাতে হবে, প্রতিহত করতে হবে। বিদিশা বলেন, আমরা এরিক এরশাদের ঘোষণা মেনে চলবো। এরশাদ সাহেবের স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করবো আমাদের কেউ থামাতে পারবে না। দুই সন্তানকে পাশে নিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে বার্তা দেবো, এরশাদ সাহেব

কী করেছেন। সবাইকে সেটা মনে করিয়ে দেবো।স্মরণ সভায় কাজী মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিদিশা সিদ্দিক, মাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী প্রমুখ। সূত্রঃ নয়াদিগন্ত

Categories
Uncategorized

পদ্মা সেতুতে চলছে পিচ ঢালাইয়ের কাজ

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দ্রুত এগিয়ে চলছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। কাজ প্রায় শেষের পথে। এখন চলছে সেতুর সড়কপথে

পিচঢালাইয়ের (কার্পেটিং) কাজ। জাজিরা প্রান্তের ৪১ নম্বর স্প্যান থেকে ৩৭ নম্বর স্প্যান পর্যন্ত রোডওয়ে স্ল্যাব, প্যারাপেট ওয়াল এবং রোড ডিভাইডার বসানো হয়েছে। এই সড়কটুকুতে বাতি ছাড়া প্রায় সব কাজই শেষ। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সেতুর ৪০ নম্বর স্প্যানের ওপরের সড়কে

পিচ ঢালাইয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে এই স্প্যানের ওপরের সড়কে ১০ মিটার প্রস্থ এবং ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের ওয়াটারপ্রুফ মেমব্রেন বিছানো হয়েছিল। যেটি পানি নিরোধক একটি প্রলেপ। তার ওপরের পিচ ঢালাই করা হচ্ছে। পিচ ঢালাইয়ের কাজ করার আগে ৪০ নম্বর স্প্যানের ওপর কমলা রঙের মেমব্রেন বিছানো হয়। মেমব্রেনের

পুরুত্ব ৩ মিলিমিটার। এর ওপরে ২ মিলিমিটারের বিটুমিনের স্তর দেওয়া হচ্ছে। তার ওপরে দেওয়া হচ্ছে পিচ ঢালাই। বুধবার (১৪ জুলাই) পিচ ঢালাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়া মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘প্রথম দিনে সেতুর ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার প্রস্থ অংশের পিচঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। সেতুর কাজ শেষের

পথে এখন। সড়কপথে পিচঢালাই কাজ শুরু হয়েছে। পিচঢালাই শেষ হলে গাড়ি চলতে পারবে।’ এদিকে পদ্মা সেতুতে রোড স্ল্যাব বসানোর কাজও শেষের দিকে। শেষ ধাপে দুইটি স্প্যানের ওপর রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো বাকি আছে। বতর্মানে ১০ নম্বর স্প্যানের ওপর রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো চলছে। এই স্প্যানের ৮০ শতাংশেরও বেশি জায়গায় রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়েছে। এই স্প্যানে

এই পর্যন্ত ৩৬টি স্ল্যাব বসেছে। এরপর ১১ ও ১২ নম্বর স্প্যানে স্ল্যাব বসানো সম্পন্ন হবে সেতুর রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ। এর আগে গত ২০ জুন শেষ হয়েছে পদ্মা সেতুর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ। তড়িৎ গতিতে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করার জন্য বিভিন্ন ধাপে কাজ চলছে। এই কাজের বড় একটা অংশ হচ্ছে রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো,

সেতুর দুই পাশে সেতুতে ওঠার ও নামা’র পথ তৈরি, প্যারাপেট ওয়াল, রোড ডিভাইডার, গ্যাস লাইন স্থাপন, রেললাইনের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং নদীশাসনের কাজ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ছয়

দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। একই সঙ্গে চলতে থাকে রোডওয়ে, রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোসহ অন্যান্য কাজ। সেতুর মূল আকৃতি দোতলা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে

এ সেতুর কাঠামো। ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যেই এই সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা রয়েছে।